অমিতাভের চেয়ে ১ রুপি বেশি পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন নানা পাটেকর

অমিতাভ বচ্চন ও নানা পাটেকর
বলিউডের নিজস্ব ধাঁচের দাপুটে অভিনেতা নানা পাটেকর সম্প্রতি ৭৫ বছর বয়সে মারা গিয়েছেন। তার মৃত্যুর পর ভক্ত ও সহশিল্পীদের মনে ভেসে উঠছে একের পর এক স্মৃতির মেলা। তেমনই এক মজাদার ও রোমাঞ্চকর স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন ‘দৃশ্যম’খ্যাত অভিনেতা কমলেশ সাওয়ান্ত।
জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কমলেশ জানান, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে একটি সিনেমায় কাজ করার আগে নানা পাটেকর নাকি এক অদ্ভুত শর্ত দিয়েছিলেন।
কমলেশ সাওয়ান্ত জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে শোনা একটি ঘটনা তার স্পষ্ট মনে রয়েছে। ১৯৯৯ সালে ‘কোহরাম’ সিনেমায় যখন অমিতাভ বচ্চন ও নানা পাটেকরকে একসঙ্গে কাস্ট করা হচ্ছিল, তখন নানা পাটেকর নাকি হেসে প্রযোজকদের বলেছিলেন, ‘আমি যদি বচ্চন সাহেবের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করি, তবে তার পারিশ্রমিকের চেয়ে ১ টাকা বেশি নেব।’
রটনা রয়েছে যে, সেই সময় ছবিতে কাজ করার জন্য অমিতাভ বচ্চনকে ১ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল, আর নানা পাটেকর তার দেওয়া শর্ত পূরণ করে ১ কোটি ১ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন।
যদিও এই কথাটি কতদূর সত্য তা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেননি কমলেশ, তবে তৎকালীন সময়ে ‘ক্রান্তিবীর’ কিংবা ‘অগ্নিসাক্ষী’র ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর নানা পাটেকর যে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকায় বিগ বি’র ঠিক পেছনেই ছিলেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
কমলেশ আরও স্মরণ করেন যে, হিন্দি সিনেমায় কেবল গান-নাচের ধারা বদলে সংলাপের মাধ্যমে হলে সিটি বাজানোর ট্রেন্ড চালু করেছিলেন নানা পাটেকর।
তিনি বলেন, ‘গণেশ টকিজ কিংবা জয় হিন্দ টকিজের মতো হাউসফুল সিনেমা হলে দর্শক সাধারণত হাততালি আর চিৎকারে মেতে থাকে। কিন্তু সিনেমা হলে মাত্র দুজন অভিনেতার প্রবেশের মুখে পুরো হল এক নিমেষে পিনপতন নীরবতায় জমে যেত, একজন বচ্চন সাহেব, আর অন্যজন নানা পাটেকর। দর্শকরা জানত কখন নানা সাহেবের মুখের সংলাপ শুনতে একদম চুপ করে থাকতে হবে।’
অভিনয়ের বাইরে নানা পাটেকরের সামাজিক অবদানের কথাও স্মরণ করেন এই অভিনেতা। মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত গ্রামগুলোতে নিজস্ব ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছিলেন নানা পাটেকর।




