একদিকে শাকিরা, অন্যদিকে বাকিরা

ফুটবল বিশ্বকাপের গান খেলোয়াড়দের যেমন অনুপ্রেরণা জোগায়, তেমনই বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি দর্শককে আন্দোলিত করে। ফিফা বিশ্বকাপের গানগুলো নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন- মীর রাকিব হাসান
দুই দশক আগে ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে তোলেন কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা। ২০০৬ সালে জার্মানিতে ফিফা বিশ্বকাপের সমাপনী আয়োজনে তিনি গেয়ে শোনান নিজের তুমুল জনপ্রিয় গান “হিপ’স ডোন্ট লাই”। ২০০৫ সালে প্রকাশিত এই গানের ভিডিওতে তার আগুন-ঝরা দুর্দান্ত নাচে বুঁদ হয় বিশ্ব।
শাকিরার ক্যারিয়ারে এমন আরেকটি বৈশ্বিক হিট ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’। ১৬ বছর আগে এর তালে তালে মেতে ওঠে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক-শ্রোতা। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী আসন গড়ে নেন লাতিন আমেরিকার এই গায়িকা। ‘ওয়াকা ওয়াকা’কে ভাবা হয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাববিস্তারকারী গান। এতে শাকিরার সঙ্গে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যান্ড ফ্রেশলি গ্রাউন্ড। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ফাইনালের আগে এটি গেয়ে শোনান তিনি।
২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে শাকিরা প্রকাশ করেন ‘ডেয়ার (লা লা লা)’। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামে থাকা গানটি দুনিয়া জুড়ে সাড়া ফেলে। আসরের অফিসিয়াল গান ‘উই আর ওয়ান’-এর জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে যায় এটি। ব্রাজিলের আয়োজনে সেই আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানে এটি পরিবেশন করেন তিনি।
এক যুগ পর শাকিরাকে দিয়ে আবারও বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান তৈরি করিয়েছে ফিফা। এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই সাড়া ফেলেছে ‘দাই দাই’। গত ২৩ মে প্রকাশের পর এখন পর্যন্ত ইউটিউবে এর ভিউ ছাড়িয়ে গেছে ১০ কোটির মাইলফলক। এতে শাকিরার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়।
মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ‘দাই দাই’ পরিবেশন করবেন শাকিরা ও বার্না বয়। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতেও মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা।
বিশ্বকাপের প্রথম গান
১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অফিসিয়াল গান প্রকাশ করে ফিফা। স্প্যানিশ ভাষায় ‘দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ রক’ গানটি পরিবেশন করে চিলির জনপ্রিয় ব্যান্ড লস র্যাম্বলার্স।
সবচেয়ে বেশি ভাষার বিশ্বকাপ গান
১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গান ‘ফুটবল’ ছিল স্প্যানিশ, ইংরেজি, জার্মান, রুশ ও পোলিশ ভাষায়। এতে কণ্ঠ দেন পোলিশ গায়িকা ম্যারিলা রদোভিচ। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো লাইভ পরিবেশন করা হয় সেই আসরে।
কণ্ঠবিহীন
১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ‘এল মুন্ডিয়াল’ ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র কণ্ঠবিহীন যন্ত্রসংগীত। ইতালীয় কিংবদন্তি সুরকার এনিও মরিকোনের সুরে এটি পরিবেশন করে বুয়েনস আয়ার্স মিউনিসিপ্যাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা।
যুগান্তকারী গান
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দ্য কাপ অব লাইফ’ গেয়ে বিশ্বতারকা হয়ে যান পুয়ের্তো রিকোর রিকি মার্টিন।
লোপেজের গান
২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ‘উই আর ওয়ান (ওলে ওলা)’ গেয়েছেন জেনিফার লোপেজ, পিটবুল ও ব্রাজিলের ক্লদিয়া লেইত্তে। পর্তুগিজ, ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় তৈরি গানটিতে বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তা রয়েছে।
বিটিএসের জাংকুক
কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপ উপলক্ষে কয়েকটি গান প্রকাশ করে ফিফা। এর মধ্যে ‘ড্রিমারস’ গেয়েছেন বিটিএস ব্যান্ডের জাংকুক।
অন্যান্য আলোচিত গান
ওয়ার্ল্ড কাপ উইলি (১৯৬৬, ইংল্যান্ড; লনি ডোনেগ্যান), ফুটবল মেক্সিকো ৭০ (লস হারমানোস জাভালা ব্যান্ড), মুন্ডিয়াল (১৯৮২, স্পেন; প্লাসিদো ডোমিঙ্গো), আ ওয়ার্ল্ড ইউনাইটেড বাই আ বল (১৯৮৬, মেক্সিকো, হুয়ান কার্লোস আবারা), গ্লোরিল্যান্ড (১৯৯৪, যুক্তরাষ্ট্র; ড্যারিল হল এবং সাউন্ডস অব ব্ল্যাকনেস ব্যান্ড), দ্য টাইম অব আওয়ার লাইভস (২০০৬, জার্মানি, ইল ডিভো এবং টনি ব্র্যাক্সটন), লিভ ইট আপ (২০১৮, রাশিয়া; উইল স্মিথ, নিকি জ্যাম, এরা ইস্ত্রেফি), বুম (২০০২, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, অ্যানাস্তাসিয়া), টু বি নাম্বার ওয়ান (১৯৯০, ইতালি; জিয়ান্না নান্নিনি ও এদোয়ার্দো বেন্নাতো)।




