শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

সংগৃহীত ছবি
আসন্ন জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
শুক্রবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তারা। ‘শিক্ষা অধিকার সংসদ’ আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বাজেট সংক্রান্ত একটি জরিপের ফলাফল ও সুপারিশমালা প্রকাশ করা হয়।
এতে জানানো হয়, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বা তার বেশি বরাদ্দের পক্ষে মত দিয়েছেন। জরিপের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্যসচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ১৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি মাদরাসা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন এই জরিপে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন ৬১.১৪ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছিলেন ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই শিক্ষা, শিক্ষা প্রশাসন ও আইইআর বিভাগের।
জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষায়। তাদের মতে, ভিত্তি দুর্বল হলে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্ভব নয়। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্টেম শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারা। গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, দক্ষ শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।
জরিপ প্রতিবেদনে শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হিসেবে দুর্নীতি, অপচয়, দুর্বল পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক জটিলতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শুধু বাজেট বৃদ্ধি নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই টেকসই শিক্ষাব্যবস্থার মূল শর্ত।




