অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া ইউজিসির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালক’ পদের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়। অভিযোগ রয়েছে— ইউজিসির একটি পক্ষের চাপের মুখে এই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে (২০২৫ সালের ১১ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির ১১ ক্যাটাগরিতে ৩৮টি শূন্য পদে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ‘সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালকের’ রয়েছে ১৫টি শূন্যপদ।
গত ১৬ জানুয়ারি ‘সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালক’ পদে এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ১৯ জানুয়ারি এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। ১৫ পদের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৭৮ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন।
মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউজিসির দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— ‘ইউজিসির সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালক পদে জনবল নিয়োগের নিমিত্ত আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য মৌখিক পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের পরবর্তী তারিখ দ্রুতই জানানো হবে।’
অবশ্য পরীক্ষা স্থগিতের সাত দিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৌখিক পরীক্ষার বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জানানো হয়েছিল, ‘ইউজিসির সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালক পদের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি কমিশন ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।’
এরপর বিএনপি সরকারের শপথের দিন (১৭ ফেব্রুয়ারি) এই পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়।
পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউজিসি সচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শিগগিরই এই পরীক্ষার নতুন তারিখ জানানো হবে।’
সচিবের দাবি, ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পুরো কমিশনের সভায় পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র বলছে, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিবের চাপের মুখে বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগ পরীক্ষাকে সামনে রেখে একটি পক্ষ ইউজিসিতে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করছেন। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ এক নেতার নাম করে ইউজিসিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান, স্ট্র্যাটেজিক প্লানিং এন্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আকরাম আলী খান ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহসহ আরও একাধিক কর্মকর্তা।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফায়েজের সঙ্গে সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিবের আলাপের একটি অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, মাছুমা হাবিব চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘১২ তারিখের আগে ইউজিসি যেভাবে চলেছে, ১২ তারিখে পর ইউজিসি আর সেভাবে চলবে না’। তবে তাৎক্ষণিক এই ক্লিপের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে অধ্যাপক মাছুমা হাবিব তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তার দাবি— পরীক্ষা স্থগিতের পেছনে তার কোনো ধরনের ভূমিকার প্রশ্নই আসে না।
তিনি বলেন, পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে মানে পরীক্ষা বাতিল নয়। পরবর্তীতে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর অডিও ক্লিপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।
তবে পূর্বনির্ধারিত মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের পেছনে ড. মহিবুল আহসানের বড় অবদান রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তার দাবি— ইউজিসির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন সরকারের দায়িত্বগ্রহণের এই মুহূর্তে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পক্ষে নয়। সরকার স্থির হলে তারা এই পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে। নিয়োগ পরীক্ষা প্রশাসনিক একটা প্রক্রিয়ার অংশ হলেও এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি ইউজিসির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

