ঢাবি উপাচার্য
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয়ের নাম

সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয়ের নাম বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, ফ্যাসিবাদী শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিরোধী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে, ভিন্নমত দমন করে এবং কুশাসনের মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
উপাচার্য বললেন, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমত দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার নানা ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিজ্ঞতা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন আশা দেখিয়েছে। সংকটময় সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো ছিল শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আল আমিন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত এবং এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থী আহসান কবিরের বাবা মাস্টার হুমায়ুন কবির বক্তব্য দেন। এছাড়া আন্দোলনে আহত অনুষদের শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন।






