মেস থেকে পাবিপ্রবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, যা বলছে পরিবার

পাবিপ্রবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার—সংগৃহীত ছবি
একটি মেস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী রাজমনি ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাজমনি ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি পাবনা শহরের ডিগ্রি বটতলা এলাকার বাদশা ছাত্রী নিবাসে থাকতেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ওই মেসের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় মরদেহটি।
পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী ছিলেন রাজমনি। এ জন্য কোর্সে ভর্তি হতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিষয়টি নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি।
স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজমনির বাবা তার জন্মের পর (২০০৫ সাল) থেকেই একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি এখনো কারাগারে আছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাজমনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন গার্মেন্টসকর্মী এবং ভাই গাড়িচালক। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর দিন দুপুর ১২টার আগে তার সঙ্গে পরিবারের কথা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তার বন্ধু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্তকে বিষয়টি জানাই, সে আর পরিবারের কারও ফোন ধরছে না কেন।
রাজমনির বন্ধু প্রান্ত দেবনাথ বলেছেন, ‘সে তার পরিবার নিয়ে হতাশায় ছিল। দুপুরে আমাদের কথা হয়। পরে ফোন দিলে আর রিসিভ করেনি। এজন্য তার পাশেরজনকে ফোন দিয়েছিলাম।’
রুমমেট অর্পিতা রশিদ বললেন, ‘প্রান্ত ফোন দিয়ে বলেছেন, তোমার বান্ধবী অস্বাভাবিক আচরণ করছে। একটু দেখে এসো। ফোন দিচ্ছি, ধরছে না। এরপর মেসে ফোন দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আমি দ্রুত সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেছেন, ‘এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত। শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা এসেছেন। প্রশাসনিকভাবে যতটুকু সম্ভব, আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করেছি।’
পাবনা সদর থানার ওসি মো. তারিকুল ইসলাম বললেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।’





