ইউজিসির তালিকায় পিছিয়ে পাবিপ্রবি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত বাজেটে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) পেয়েছে ৬৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রাজস্ব বাজেট, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
ইউজিসির প্রকাশিত বাজেট অনুযায়ী, পাবিপ্রবির চেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে শুধু রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যার রাজস্ব বাজেট ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট) পেয়েছে ১৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১২১ কোটি ২৯ লাখ টাকা, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও পাবিপ্রবির তুলনায় পেয়েছে বেশি বাজেট। এর মধ্যে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে ৯৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৮৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৭১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তবে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ ৬৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা পাবিপ্রবির তুলনায় সামান্য কম।
বাজেট ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীসেবা ও আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম বাজেট বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পাবিপ্রবি প্রয়োজনের তুলনায় পেয়ে আসছে কম বরাদ্দ। তাদের মতে, বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা, একাডেমিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এ বাজেট। শিক্ষার্থীরা এ বরাদ্দকে বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করছেন।
একাধিক শিক্ষার্থী বলছিলেন, পাবিপ্রবি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বারবার পিছিয়ে পড়ছে। উন্নত শিক্ষা ও গবেষণা পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য আরও বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে বাজেট পুনর্বিবেচনা করবে এবং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে অধিক বরাদ্দ নিশ্চিত করবে।


