‘ভাউচার মেলা’ ব্যানারে ছাত্রদলের ব্যঙ্গাত্মক আয়োজন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ— সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা উত্তোলনের বিপরীতে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ প্রতীকী আয়োজন করা হয়। ব্যানারে বড় করে লেখা ছিল ‘ভাউচার মেলা’। সেখানে কার্টুনের মাধ্যমে একদিকে কাগজের স্তূপ হাতে এক চরিত্রকে ‘হিসাবের ভাউচার নেই’ এবং অন্যদিকে ‘রাকসু’ লেখা বুথে দাঁড়িয়ে আরেক চরিত্রকে ‘ভাউচার দিতে পারিনি’ বলতে দেখানো হয়। নিচে লেখা ছিল, ‘আয়োজনে: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।’
এ সময় ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখা ছিলো, ভিপি-জিএস এর নাস্তার বিল সম্পর্কিত বিল, সেলাই মেশিন ও কর্মশালা ভাউচার, সভা-সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন বাবদ ভাউচার, ডেকোরেটর, সাউন্ড ও প্রজেক্টের ভাড়া ভাউচার,কাওয়ালী দলের ভাউচার, বেলচা ক্রয় ভাউচার, নেপাল ট্যুর ভাউচার, রাকসু গেম ভাউচার, ওয়েল ফেয়ার ছাদ ভাড়া ভাওচার।
মেলার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিটুন বললেন, ‘রাকসু ফান্ড থেকে ১ কোটিরও বেশি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তারা ৬২ লাখ মতো টাকার হিসাবের ভাউচার এখনো দিতে পারেনি। এখন দেখা যাচ্ছে রাকসু সদস্যদের ভুয়া ভাউচার বানানোর জন্য দোকানে একটা হিড়িক পরে গেছে। ভিপি-জিএস আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন জিনিস যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে সেজন্য ভাউচার সোসাইটি এ আয়োজন করেছে। তাদের টাকাটা পূরণ করে দেওয়ার জন্য যে ফেক ভাউচার লাগবে সেটা এখান থেকে প্রদান করা হবে। এখান থেকে বিভিন্ন সেগমেন্টের ভাউচার প্রদান করা হবে।’
বিজয় ২৪ হলের ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ফেরদাউস হাসান বললেন, 'আমরা নিউজের মাধ্যমে দেখেছি যে রাকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস যারা আছে তারা ফান্ড থেকে যে টাকা উত্তোলন করেও তার ভাউচার জমা দেয়নি। এখন যেহেতু তাদের ভাউচার লাগবে এই খরচ গুলো দেখানো জন্য এটার জন্য ভাউচার মেলা করা হয়েছে। আশা করি তারা এখানে আসবে ভাউচার বানিয়ে নিয়ে যাবে।'
সম্প্রতি রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি।
সবচেয়ে বেশি হিসাব বকেয়া রয়েছে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নামে। তিনি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ভাউচার জমা দেননি। অন্যদিকে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা উত্তোলন করলেও জমা দিয়েছেন মাত্র ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার বিল; ফলে তার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকা এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে।
এ ছাড়া ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক ও সাহিত্য, তথ্য ও গবেষণা, মিডিয়া, মহিলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ সম্পাদক এবং এজিএসসহ একাধিক পদধারীর ব্যয়ের বিপরীতেও বিল-ভাউচার বকেয়া রয়েছে।







