পদোন্নতি জটিলতায় অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধ সব কার্যক্রম

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরে চলা পদোন্নতি জটিলতাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতি। সমাধানের আশ্বাস মিললেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকরা শেষ পর্যন্ত ১০ মে থেকে পূর্ণ শাটডাউন কর্মসূচিতে গেছেন, যার ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
শিক্ষকদের অভিযোগ, পদোন্নতির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তা বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং ওই সভায় শিক্ষকদের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি বলে ওঠেছে অভিযোগ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা সাধারণ সভা করে ১০ মে থেকে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন তারা, একযোগে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেন। একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক প্রশাসনিক পদ থেকেও সরে দাঁড়ান, যা পরিস্থিতিকে করে তোলে আরও জটিল।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত মূলত এপ্রিল মাস থেকেই। প্রথমে কর্মবিরতি ও প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন প্রায় ৬০ জন শিক্ষক।
বর্তমানে এই শাটডাউনের কারণে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে সেশন জট তৈরি হয়ে শিক্ষাজীবনে ফেলতে পারে বড় ধরনের প্রভাব।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়মনীতি অনুসরণ করে পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন। তবে চলমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলেছে আলোচনার তোড়জোড়।




