ঢাকা চেম্বার অব কমার্স
উৎসে কর মনিটরিংয়ে হয়রানির শঙ্কা

ফাইল ছবি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উৎসে কর পরিদর্শনের নতুন পদক্ষেপে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন অহেতুক হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
গতকাল সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্য সংগঠনটি জানিয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারার আওতায় কর কর্তন, জমা ও যাচাইকরণে এনবিআর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আহরণে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কর আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলা কোনো প্রতিষ্ঠান যেন অযথা ভোগান্তির মুখে না পড়ে।
পাশাপাশি যেসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এখনো পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স বা প্রয়োজনীয় শর্ত পরিপালন করতে পারেনি, তাদের প্রস্তুত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে ঢাকা চেম্বার।
বেসরকারি খাতের অহেতুক ভোগান্তি কমাতে দেশের সামগ্রিক করব্যবস্থাকে দ্রুত অটোমেশন ও ডিজিটাল করার দাবি জানিয়েছে বাণিজ্য সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এনবিআরের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই রাজস্ব বৃদ্ধি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
এদিকে গত রবিবার উৎসে কর আদায় ও তদারকি জোরদার করতে কর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনবিআর।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুসারে, কর কর্মকর্তারা যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসাকেন্দ্র বা দপ্তরে বিনা বাধায় প্রবেশ ও সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন। পাশাপাশি তারা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক হিসাব বিবরণী, রসিদসহ অর্থনৈতিক কার্যক্রম-সম্পর্কিত যেকোনো নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব করার এখতিয়ার রাখেন।
এ ছাড়া, প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙে সেখানে প্রবেশ করার ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হয়েছে। উৎসে কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করে নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা যেকোনো নথিপত্র, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন এবং তাতে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহার করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রাজস্ব আহরণের এসব কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করা হলে আইনটির ১৪৭ (২) ধারা অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে।




