আগামীর সময়

শেয়ারবাজারের হেভিওয়েট শেয়ারে ‘র‍্যালি’, সূচকে নতুন উদ্দীপনা

শেয়ারবাজারের হেভিওয়েট শেয়ারে ‘র‍্যালি’, সূচকে নতুন উদ্দীপনা

প্রতীকী ছবি

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক সুর ফেরায় দেশের শেয়ারবাজারে নতুন উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত ওয়াচলিস্টে থাকা শেয়ারগুলোতে উল্লেখযোগ্য রিটার্ন পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।


ইবিএল সিকিউরিটিজ জানিয়েছে— তাদের সুপারিশকৃত শেয়ারগুলো চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে বিনিয়োগকারীদের গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ মুনাফা দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ওয়াচলিস্টভুক্ত শেয়ারগুলোর গড় রিটার্ন ছিল ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে—যা প্রায় ১৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। অর্থাৎ, নির্বাচিত শেয়ারগুলো সামগ্রিক বাজারের চেয়েও সামান্য ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

ওয়াচলিস্টে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৯ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছে ৪২ শতাংশ উল্লম্ফন ঘটায়। ব্যাংক ও ওষুধ খাতও ছিল শক্ত অবস্থানে। সিটি ব্যাংক ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩৩ টাকায় এবং বেক্সিমকো ফার্মা ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সায় উঠে আসে।

এছাড়া ব্যাংক এশিয়া ২০ দশমিক ৩ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ইস্টার্ন ব্যাংক ১৮ দশমিক ১ শতাংশ রিটার্ন দেয়। আর্থিক খাতে আইডিএলসি ফাইন্যান্স ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিল্পখাতে বিএসআরএম স্টিলস ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ অগ্রগতি দেখিয়েছে।

বড় মূলধনী শেয়ারও বাজারে গতি যোগ করেছে। ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ প্রত্যেকটি ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, রবি আজিয়াটা ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এছাড়া বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, ইস্টার্ন হাউজিং ও এনভয় টেক্সটাইল মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত এমজেএল বাংলাদেশ, আইটিসি লিমিটেড এবং মতিন স্পিনিং-ও ইতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে।

ইবিএল সিকিউরিটিজের একজন জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী জানান, দীর্ঘ চার বছর মন্দার পর বাজারে এখন বিস্তৃত পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, স্থিতিশীল নীতি পরিবেশ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ইতিবাচক প্রবণতা এ উত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


তিনি জানান, তাদের ‘ইয়ারলি মার্কেট আপডেট ২০২৫ অ্যান্ড আউটলুক ২০২৬’ বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়াচলিস্ট ইতোমধ্যে বাজারকে ছাড়িয়ে রিটার্ন দিয়েছে।

তার মতে, মৌলভিত্তিক বিশ্লেষণনির্ভর শেয়ার নির্বাচন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বাজার মনোভাবের সময়োপযোগী মূল্যায়ন বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ তৈরি করতে পারে। নতুন সরকারের প্রবৃদ্ধিমুখী আর্থিক নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে শেয়ারবাজারে চলমান ইতিবাচক ধারা আরও জোরদার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী।


    শেয়ার করুন: