কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, আটকা ৫৪ হাজার কনটেইনার

ফাইল ছবি
শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দর এখন কার্যত অচল। জেটি ও ডিপোতে আটকা পড়ে আছে সাড়ে ৫৪ হাজার কনটেইনার। বহির্নোঙরে খোলা পণ্য নিয়ে ভাসছে ১৪২টি জাহাজ।
আন্দোলন দমাতে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের পরেও কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনাকারীরা। বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলছে এই কর্মসূচি।
গত শনিবার থেকে তিনদিন ৮ ঘণ্টা করে চলে কর্মসূচি। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি। দুপুরের পর ঘোষণা আসে, কর্মসূচি চলবে অনির্দিষ্টকাল। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে কোনো অগ্রগতি নেই। দমননীতির কারণেই টানা এই আন্দোলনের ঘোষণা তাদের।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘বন্দরের কিছু কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা সাখাওয়াত সাহেবসহ তারা একটা সিন্ডিকেটে জড়িত হয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এই এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে দিতে চায়। আমরা বন্দরের শ্রমিক কর্মচারী এটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ফরেন শিপ আসা–যাওয়া করবে না। সমস্ত মুভমেন্ট আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।'
অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেও আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের কথা জানিয়েছে সিএমপি। উপপুলিশ কমিশনার আমীরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা সচেষ্ট আছি, সতর্ক আছি। আশা করি এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটবে না।’

