নগদ লভ্যাংশ ২৮২ কোটি
- সাধারণ বীমা কোম্পানি

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪৩টি সাধারণ বীমা কোম্পানি ২০২৫ সালের ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ২৮২ কোটি টাকার বেশি নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। পরিচালনা পর্ষদের ঘোষিত এই লভ্যাংশের গড়হার ১১.৭৪ শতাংশ। পাশাপাশি পাঁচটি কোম্পানি ১ কোটি ৫৩ লাখ বোনাস শেয়ারও দেবে। এসব লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনসাপেক্ষে।
ত্যথ বলছে, বিদায়ী বছরে এ খাতটির নিট মুনাফা হয়েছে ৫৯২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ বা ২৮২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা লভ্যাংশ হিসাবে বিতরণ করা হবে এবং বাকি ৫২ শতাংশ বা ৩১০ কোটি ৬ লাখ টাকা থাকবে সংরক্ষিত।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক পরিচালক শাকিল রিজভী আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বীমা খাত নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও শেয়ারবাজারে এ খাতটি সবচেয়ে ধারাবাহিক ও ভালো লভ্যাংশ দেয়।
লভ্যাংশ ঘোষণায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রিলায়েন্স, প্রগতি ও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। এই তিনটি কোম্পানি ৩০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিচ্ছে। এর মধ্যে পুরোটাই নগদ দেবে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স। প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ২৭ শতাংশ নগদ ও ৩ শতাংশ বোনাস এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স ২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেবে।
টাকার অঙ্কেও সবচেয়ে বেশি ৮৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা লভ্যাংশ দেবে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ২৭ শতাংশ হারে ৫৪ কোটি ৫১ লাখ এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স থেকে দেওয়া হবে ২৫ শতাংশ হারে ৪৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
রিল্যায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র রাজবংশী বললেন, অনিয়ম ছাড়া নিজস্ব নিয়মে ব্যবসা পরিচালনা ও কর্মীদের বাড়তি কমিশন না দেওয়ায় মুনাফা ও লভ্যাংশ দুটিই বেশি হয়েছে।
লভ্যাংশে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স থেকে ২৭ শতাংশ নগদ ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, সেনা ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, বিজিআইসি, পিপলস ইন্স্যুরেন্স এবং রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ১০.২৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ দেবে।
পাশাপাশি সিটি ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, জনতা ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ও ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। অন্যদিকে, নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্স, রূপালী ইন্স্যুরেন্স ও সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ঘোষণা করেছে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার।
লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, যারা মাত্র ২ শতাংশ বা ১৬ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন কন্টিনেন্টাল ও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। তবে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার লভ্যাংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন সিকদার ও ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা-পরিচালকরা।




