জ্বালানি ও বাজেটের শঙ্কা উড়িয়ে শেয়ারবাজারে উত্থান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আসন্ন জাতীয় বাজেট এবং সম্প্রতি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নানামুখী শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান লক্ষ করা গেছে। ঈদের ছুটির পর গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসেই বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং আস্থার প্রতিফলনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বাজার।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৪ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪৫ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ১১৫৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘কমিশন সংস্কারের’ আভাসে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসায় বাজার এই ইতিবাচক গতিতে রূপ নিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এ সংস্কারের মাধ্যমে বাজারের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে, লেনদেনের স্বচ্ছতা ও সততা বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক শেয়ারবাজারের গভীরতা আরও বাড়বে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ২০৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১৯৯৫ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১১০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৬৯ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৮টির, কমেছে ৪৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১১টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭৯৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে প্রকৌশল খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল।
লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। ১১ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। ব্যাংক খাত ১০ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা ও আবাসন খাতে। এ ছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে শুধু পাট খাতে ২ দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ২৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৯১০ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ১৭০ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৩৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৯টির, কমেছে ৫৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির বাজারদর।




