কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের দাবি

ছবি: আগামীর সময়
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল এবং কর আদায়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
আজ সোমবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত প্রাক্-বাজেট সংলাপে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তওফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেছেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে করব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং ন্যায়নীতি বজায় রাখতে হবে।
তওফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ইচ্ছা করে ঋণখেলাপিদের কোনো ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া উচিত নয়। এতে খেলাপি সংস্কৃতি আরও উৎসাহিত হবে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এর ফলে কর আদায় কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা দরকার।
বিদ্যুৎ খাত নিয়ে তার ভাষ্য, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বিদ্যুতের দাম বাড়েনি। এ খাতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও তা যথেষ্ট নয়। আগে এ খাতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।
মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমাতে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও কম।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, কর আদায়ের বাস্তব সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প নিতে হবে। কারণ সরকার এখনো পরিচালন ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত কর আয় করতে পারছে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করা গেলে তার বাস্তবায়নও সহজ হবে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট জনগণের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।
অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এবং সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।




