পাইপলাইনে ৫ লাখ কোটি টাকা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পাইপলাইনে জমে আছে বৈদেশিক ঋণের ৪ হাজার ২০৯ কোটি ডলার বা প্রায় ৫ লাখ ৫৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ জমা বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তের ঋণের প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে জাপানের ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৪০ কোটি এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রায় ৮৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এই টাকার পুরোটাই একবারে ব্যয় করা সম্ভব না হলেও এখন থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কই কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে দেশের উন্নয়নে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, দরপত্র প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতাসহ নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুরবস্থা বিরাজ করছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত অর্থছাড় হচ্ছে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক ঋণ বা অনুদাননির্ভর প্রকল্পগুলোর গতি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম আগামীর সময়কে বললেন, মূলত বৈদেশিক ঋণের অর্থ ব্যয় হয় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে। এজন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি যত বাড়বে অর্থছাড়ও ততই হবে। কিন্তু এ দেশের প্রকল্পগুলো বারবার সংশোধন করতে হয়। পাঁচ বছরের প্রকল্প যায় সাত বছর। এ ছাড়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ঠিকমতো না করেই নেওয়া হয় প্রকল্প। ফলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে দেখা দেয় নানা জটিলতা। এ কারণে অর্থছাড় কমে যায়। পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালকদের দক্ষতার অভাবেও ক্রয় কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দেয়। কেননা, অনেক সময় উন্নয়ন সহযোগীদের নিজস্ব আইনকানুনের সঙ্গে মিলিয়ে কেনাকাটা করতে হয়। আবার তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মধ্যে থাকতে হয়। সেই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের তরফ থেকেও নানা জটিলতা থাকে। সেসব সমাধান করতে গিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই। বাস্তবায়ন হার যত বেশি হবে, অর্থছাড়ও কাঙ্ক্ষিত হবে।
ইআরডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সবগুলো উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুত জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৫৪০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি ছিল ৫ লাখ ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে পাইপলাইন থেকে টাকা খরচের অঙ্ক সামান্য বেড়েছে। উন্নয়ন সহযোগীদের একক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭১-৭২ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সবচেয়ে বেশি ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। পাইপলাইনে জমা আছে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অনেক প্রকল্পই রুগ্ণ প্রকল্প হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
এসব প্রকল্পের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। যেসব প্রকল্প ধীরগতি বা দীর্ঘদিন ধরে এগোচ্ছে না, সেসব প্রকল্পের প্রতিশ্রুত অর্থ অন্য কোনো প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় কি না। এ বিষয়ে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে।
জাপানের প্রতিশ্রুতি প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা, ছাড় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮০ কোটি। পাইপলাইনে আছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এডিবির প্রতিশ্রুতি ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। ছাড় ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ কোটি। পাইপলাইনে আছে প্রায় ৮৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা।




