আগামীর সময়

‘অপপ্রচার চলছে’- বলে বের হয়েই পেলেন পদ হারানোর খবর

‘অপপ্রচার চলছে’- বলে বের হয়েই পেলেন পদ হারানোর খবর

সংগৃহীত ছবি

একের পর এক বিক্ষোভের মুখে দুপুরে ডাকলেন জরুরি সংবাদ সম্মেলন, অপপ্রচার চলছে বলে করলেন অভিযোগ। কিছুক্ষণ পরই পেলেন খবর- হাতছাড়া হতে যাচ্ছে পদ।

‘শুনলাম, আমি আর নেই’- পদ খোয়ানোর খবরে কার্যালয় থেকে বের হয়ে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তাকে সরিয়ে পদে বসানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাকুর রহমানকে।

দুপুরে এ খবর ছড়ানোর কিছুক্ষণ আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন গর্ভনর আহসান মনসুর। ব্যাংক একীভূতকরণ ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার’ বলে সেখানে মন্তব্য করেন তিনি।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ের নিচে তার পদত্যাগের দাবিতে সকালে বিক্ষোভ করছিলেন একদল কর্মকর্তা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন গভর্নর। 


৭৬ লাখ আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩২ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

তার অভিযোগ, ‘দুর্বল ব্যাংক পুনরুদ্ধার ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ব্যর্থ করতে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয়... লাখো আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্র, কোনো কর্মকর্তা বা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন নয়- উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তার নামে অভিযোগ করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে গভর্নরের বক্তব্য, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার অধিকার নেই সরকারি নীতিগত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার। এটি তাদের আওতাভুক্ত বিষয় নয়। যারা অপপ্রচার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শোকজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শোকজের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে।’

বদলি তিন কর্মকর্তা হলেন- নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নরের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। এর মধ্যে ছিল দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া।

গভর্নরকে তারা আখ্যা দিয়েছিলেন ‘স্বৈরাচার’ বলে। তাদেরকে মঙ্গলবার শোকজ ও বদলি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এই শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, বদলির আদেশ বাতিলসহ একাধিক দাবি পূরণ না হলে বৃহস্পতিবার থেকে কলম বিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সবস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তুলেছেন গভর্নরের পদত্যাগের দাবিও।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিচে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ব্যানারে বুধবার সকালে প্রতিবাদ সভায় এই দাবি ওঠে।


দুপুরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসে গভর্নরের পদ থেকে আহসান মনসুরকে সরিয়ে দেয়ার খবর। সংবাদ সম্মেলন শেষে খবর পেয়ে দ্রুত কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান তিনি।


‘আমি পদত্যাগ করিনি, আমাকে রিমুভও করা হয়নি... আমি কিছুই জানি না। তবে শুনেছি আমি আর নেই... গণমাধ্যমে দেখেছি, তাই আমি বাসায় চলে যাচ্ছি’- বাইরে থাকা সাংবাদিকদের এটুকুই বললেন তিনি।


চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৪ আগস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।




    শেয়ার করুন: