আগামীর সময়

১৬ টাকা কমেছে ফার্নেস অয়েলের দাম

১৬ টাকা কমেছে ফার্নেস অয়েলের দাম

সংগৃহীত ছবি

উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্পে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম। এতে ফার্নেস অয়েলের দাম ৮৬টাকা থেকে কমিয়ে ৭০.১০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবাবের মতো ফার্নেস অয়েলের দর ঘোষণা করেছে বিইআরসি। গত ২৯ জানুয়ারি গণশুনানি গ্রহণ করা হয়।

আগের সরকারের সময়ে বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশপেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে এসেছে। অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেটএ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির উপর ন্যস্তকরে। প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি জেট ফুয়েল ওফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয় বিপিসি। ওইপ্রস্তাবের পর শুধু জেট ফুয়েলের দামের গণশুনানি করে মে মাসেজেট ফুয়েলের দাম ঘোষণা করেছে বিইআরসি। এরপর প্রতিমাসে জেট ফুয়েলের দর সমন্বয় করা হচ্ছিল।

এই জ্বালানির সবচেয়ে বড় গ্রাহক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২ মে. টন বিক্রয় হয়েছে। এরমধ্যে ইআরএল থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে ৩৪দশমিক ৮৭ শতাংশ, অবশিষ্ট ৬৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে।

২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধা বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠিত হয়। আইনে সকল ধরণের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেওয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধুমাত্র গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করে। তারপর থেকে কার্যত বেকার হয়ে পড়েছিল আধা বিচারিক প্রতিষ্ঠানটি। অন্তবর্তীকালীন সরকার ২০২৩ সালের সংশোধনী বাতিল করে দিলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দর ঘোষণার একক এখতিয়ার ফিরে পেয়েছে বিইআরসি।

তবে আগের মতোই এখনও নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ফেব্রুয়ারি “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা” প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে সরকার। ওই ফর্মুলা অনুযায়ী প্রতিমাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করার কথা। গেজেট অনুযায়ী বিপিসি ও অন্যদের কমিশন অপরিবর্তিত থাকছে শুধু আমদানি মূল্যের তারতম্য সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিপিডিবির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা গণশুনানিতে বলেছিলেন, আমরা বিপিসির কাছে থেকে তেল কিনেবিপুল পরিমাণ লোকসানি দিচ্ছি। আর আমাদের কাছে তেল বিক্রি করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিসি লাভ করেছে ৪ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরও লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আমরা ফার্নেস অয়েল বিপিসির কাছ থেকে কিনছি, বেসরকারি কয়েকটি কোম্পানি নিজেরা আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বেসরকারি কোম্পানির আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েলের দাম পড়েছে ৫৭ টাকা। আর বিপিসির কাছ থেকে কিনতে হয়েছে ৮৬ টাকা দরে। ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি খরচ হচ্ছে ১৮.৪১ টাকা। আর আমরা প্রতিইউনিট বিক্রি করছি ৬.৯৯ টাকা (পাইকারি)। ভোক্তাদের কথা চিন্তা করে দাম বাড়ানো যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক বাজারদরের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, কোন অবস্থাতেই ৫০ টাকার বেশি দাম হওয়া উচিত না। আমরা (বিপিডিবি) বলছি আমার জনগণ, আমার ভোক্তাকে সাশ্রয়ী মূল্যে দিতে হবে। সেখানে বিপিসি ও তাদের অধীনস্থ কোম্পানিগুলো (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) তাদের কোম্পানি, তাদের মুনাফা এভাবে উপস্থাপন করছে। বিপিডিবি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে আগামী গরমের মৌসুম নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ফার্নেস অয়েলের দাম কমানো না গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট হতে পারে।

    শেয়ার করুন: