পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বরাদ্দ ২১০০ কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি
পাঁচ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) অবসায়নে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে। ব্যক্তি পর্যায়ে গ্রাহকদের টাকা দিতেই এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আর সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক আজ (মঙ্গলবার) পরিচালক পর্ষদ অনুমোদন দিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
সূত্র জানায়, আজ (৯ জুন) পর্ষদ সভা শুধু পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং দেশের আর্থিক খাতে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ এনবিএফআই রেজল্যুশন কাঠামোর বাস্তব প্রয়োগের পথও উন্মুক্ত করবে। পর্ষদ অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই অবসায়ন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এ পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের টাকা অবসায়ন হলে প্রথমে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন আমানতকারীরা। সেজন্য সরকারের বাজেটে বরাদ্দ জরুরি। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইনে ২ লাখের বেশি টাকা ফেরত পান না গ্রাহক।
অবসায়নের তালিকাভুক্ত এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে, দেশের ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছিল না। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে আমানতকারীদের পাওনা প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। আর ৯টি নাজুক দশায় থাকা প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি। আর সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসায়নের তালিকাভুক্ত এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ করতে লাগবে প্রায় ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে এ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি গ্রাহকের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত লাগবে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ঋণ খেলাপি। আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ খেলাপি। পিপলস লিজিংয়ের ৯৫ শতাংশ খেলাপি এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
গত ১২ মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় প্রথম ধাপে পাঁচটি এনবিএফআই অবসায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করে। এতে আমানত ফেরতের অগ্রাধিকার, অর্থের উৎস, অর্থ বিতরণের পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।




