লাল তালিকায় ৬৬৫ প্রকল্প
- বাতিলের শঙ্কা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পোস্টমর্টেম টেবিলে যাচ্ছে ৬৬৫ উন্নয়ন প্রকল্প। এগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি শূন্য থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব প্রকল্প নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হবে। অপ্রাসঙ্গিকতা এবং অপ্রয়োজনীয় হলে প্রকল্পগুলো বাতিলের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে উন্নয়ন প্রকল্পে মন্থর গতির ৮ কারণ চিহ্নিত করেছে অর্থ বিভাগ। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন উন্নত করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় এসব বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ আগামীর সময়কে বলেছেন, হুট করে যেকোনো চলমান প্রকল্প বন্ধ করা ঠিক নয়। কোনো প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ হওয়া মানে এর পেছনে বেশ টাকা খরচ হয়েছে। এক্ষেত্রে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া আগে ভাবতে হবে, যাতে ওই টাকাগুলো সম্পূর্ণ অপচয় না হয়।
পরিকল্পনা বিভাগ এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলো সংগতিপূর্ণ কি না, তা পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে। এক্ষেত্রে বিভাগটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে বলেছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে ২৪৪টি প্রকল্পের। এ ছাড়া ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ অগ্রগতি ২৪১টির এবং শূন্য থেকে ৩০ শতাংশ অগ্রগতির প্রকল্প রয়েছে ৬৬৫টি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এনইসি বৈঠকে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদে সরকারের লক্ষ্য হবে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে অধিক অবদান রাখতে সক্ষম প্রকল্পে বরাদ্দ অব্যাহত রাখা এবং কম গুরুত্বপূর্ণ, বিলম্বিত বা পর্যাপ্ত প্রস্তুতিহীন প্রকল্পে বরাদ্দ পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে উন্নয়ন ব্যয়ের গুণগত মান বৃদ্ধি করা। এর ফলে সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা বাড়বে এবং উন্নয়ন ব্যয়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ভারসাম্য রক্ষায় এটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। এগুলো হলো— প্রকল্প অনুমোদনের সময় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতি, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ভূমি অধিগ্রহণে দেরি, বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের দুর্বলতা, মাঝপথে প্রকল্প ব্যয় সংশোধন, নকশা পরিবর্তন এবং প্রকল্পভিত্তিক অর্থছাড় ও নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা। এ ছাড়া সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও সতর্কভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ব্যয়ের গুণগত মান ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন উন্নত করতে সংস্কার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আরও শৃঙ্খলা আনা হবে। এজন্য এমন একটি কার্যকর প্রকল্প যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার, যাতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া কোনো প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত না হয়। পাশাপাশি বাস্তবসম্মত বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, ক্রয় কার্যক্রম সময়মতো শুরু করা, দরপত্র প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো নিয়মিত পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকল্পভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে কোন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, কোনটি পুনর্গঠন বা একীভূত করা হবে এবং কোনটি পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আইবাস প্লাস প্লাস, আইএমইডি পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ের ড্যাশবোর্ডের কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি বাড়বে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেছেন, আমরা ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতির প্রকল্পগুলো কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করব। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা বর্তমান সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হয়, তাহলে বাদ দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে ঢালাওভাবে বন্ধ করা হবে না।


