টনপ্রতি রডে ১২ হাজার টাকা বাড়তে পারে
- বিএসএমএর সংবাদ সম্মেলন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট, শুল্ক ও কর বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের স্টিল শিল্পে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও নতুন কর-শুল্ক কাঠামোর কারণে প্রতি টন স্টিল উৎপাদনে অতিরিক্ত ব্যয় ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদনে চলা অনেক স্টিল কারখানার টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেছেন, এবারের বাজেটে কিছু ইতিবাচক ও ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ রয়েছে। ন্যূনতম করসংক্রান্ত কয়েকটি বিধান বাতিল, আপিল ও হাইকোর্ট রেফারেন্সের ক্ষেত্রে অগ্রিম কর জমার হার কমানো, বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বিদ্যুৎ বিক্রয়ের বিলের ওপর উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তগুলো ব্যবসা সহজীকরণে সহায়ক হবে। তবে একই সময়ে স্টিল শিল্পের ওপর নতুন করে ভ্যাট, শুল্ক ও করের চাপ আরোপ করায় শিল্পটির টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
দেশের স্টিল শিল্প টিকিয়ে রাখা মানে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করা। তাই শিল্পের স্বার্থে প্রস্তাবিত কর-শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএসএমএর সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— স্টিল শিল্পের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও কর প্রত্যাহার, বিক্রয় পর্যায়ের ভ্যাট ও স্থানীয় স্ক্র্যাপের ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট বাতিল, কাঁচামালের ওপর আরোপিত কর-শুল্ক পুনর্বিবেচনা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রানি স্টিলের চেয়ারম্যান সুমন চৌধুরী, সোনারগাঁও স্টিলসের এমডি মারুফ মহসিন, সিএসআরএমের পরিচালক জাকারিয়া প্রমুখ।
বিএসএমএর তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টন স্টিলের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১ কোটি টনের বেশি। ফলে অধিকাংশ কারখানা বর্তমানে ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তারা পড়ছেন আর্থিক চাপে।
সংগঠনটি জানায়, সাম্প্রতিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতি টন স্টিল উৎপাদনে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি বন্দর চার্জ, রিভার ডিউজ, ল্যান্ডিং চার্জ, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আরও ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট বৃদ্ধি, স্থানীয় স্ক্র্যাপের ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট এবং ফেরো-অ্যালয়, রিফ্র্যাক্টরি সামগ্রী ও স্পেয়ার পার্টসের ওপর কর-শুল্ক বাড়ানোর ফলে প্রতি টনে আরও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে প্রত্যক্ষ উৎপাদন ব্যয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার, ব্যাংক ঋণের সুদ ও ওভারহেড ব্যয়ের কারণে পরোক্ষভাবে আরও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ব্যয় বাড়তে পারে। এতে করে প্রতি টনে মোট অতিরিক্ত ব্যয় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিএসএমএ।




