নতুন পে স্কেল
৪২৫২২ কোটি লাগবে প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে
- আজ শুরু পে ফিক্সেশনের কাজ
- তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নতুন পে স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রথম ধাপের বেতন বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ৪২ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন কাঠামোর ৪০ শতাংশ পরিশোধ করতে এ অর্থের প্রয়োজন হবে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর— এ তিন মাসের বেতন একসঙ্গে দিতে আজ সোমবার থেকে পে ফিক্সেশনের কাজ শুরু হয়েছে। চাকরিজীবীদের মধ্যে কে, কত টাকা পাবেন সেটি নিরূপণ করা হবে। ২০ অক্টোবরের মধ্যে এটি শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরী আগামীর সময়কে বলেছেন, মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো দরকার ছিল। কিন্তু এমন সময় এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে, যা সঠিক সময় নয়। বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন নিশ্চিত করা নতুন সরকারের জন্য এক বিরাট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থ বিভাগের তৈরি করা প্রাক্কলন অনুযায়ী, মূল বেতন বৃদ্ধির কারণে যেখানে অতিরিক্ত ৩৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন রয়েছে, তার ৪০ শতাংশ হিসেবে সরকারের পকেট থেকে বাড়তি যাবে ১৫ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতাদি বাবদ অতিরিক্ত ২৯ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার চাহিদার ৪০ শতাংশ হিসাব করলে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। যদিও এ মুহূর্তে বাড়ি ভাড়া কার্যকর হচ্ছে না। এ ছাড়া বর্তমান ৯ লাখ ১৬ হাজার পেনশনভোগীর জন্য বাড়তি ১৯ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার প্রয়োজন অনুমিত হয়েছে, যার ৪০ শতাংশ বা ৭ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে এ খাতে।
সূত্রমতে, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর জন্য বাড়তি ৪ হাজার ৯ কোটি টাকার চাহিদার ৪০ শতাংশ হিসাবে প্রয়োজন হবে ১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ৫৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত চাহিদার ৪০ শতাংশ হিসাবে বাড়তি ব্যয় হবে মাত্র ২২৮ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের সূত্র বলছে, বেতন নির্ধারণ শেষ হওয়ার পর তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া একসঙ্গে দেবে সরকার। তবে সবার বকেয়া সমান হবে না। গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোতে নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।
কারও পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড হয়ে থাকলে সেসব তথ্যও দিতে হবে। এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতন-সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় জটিলতা হতে পারে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নাম্বার প্রয়োজন হবে। কারও এনআইডি না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন করতে হবে।
অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের বেতন নির্ধারণে বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। এসব তথ্য ঠিক থাকলেই নতুন বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাব সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮, এ দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে বেতন-ভাতা। নতুন ও পুরনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এ বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেওয়া হবে পার্থক্যের ৭০ শতাংশ। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।
নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের বেতন কাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোর হিসাব নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এগুলো ঠিক করা হচ্ছে।



