সাড়া ফেলেছে ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল অনবোর্ডিং

সংগৃহীত ছবি
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সহজ করতে চালু করা ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল অনবোর্ডিং সেবা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই সেবার মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এসএমই উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন। এরই মধ্যে এই পদ্ধতিতে ৫০ হাজার এসএমই অ্যাকাউন্ট খোলার মাইলফলক স্পর্শ করেছে ব্যাংকটি।
ব্র্যাক ব্যাংক জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল অনবোর্ডিং চালু করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট খোলার নীতিমালা অনুসরণ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচলিত সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে এই সেবা চালু করা হয়েছে।
নতুন পদ্ধতিতে গ্রাহকরা অ্যাকাউন্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই হিসাব নম্বর পেয়ে যাচ্ছেন। চেকবই ও ডেবিট কার্ডসহ প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় লাগছে সর্বোচ্চ তিন কার্যদিবস। আগে একই প্রক্রিয়ায় সাত থেকে আট দিন পর্যন্ত সময় লাগত।
ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন উল্লেখ করেছেন, গ্রাহকের সময় ও শ্রম কমিয়ে আনার লক্ষ্য থেকেই ডিজিটাল অনবোর্ডিং চালু করা হয়েছে। তার ভাষ্য, এই সেবার ফলে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি বেড়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে আরও এক লাখ এসএমই উদ্যোক্তাকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ব্যাংকটি। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল অনবোর্ডিং শুধু গ্রাহকের অভিজ্ঞতাই উন্নত করেনি, বরং কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয়ও কমিয়েছে।
আর্টিস্টিক স্টুডিও অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ আবু রাসেল সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকে তার ব্যবসার জন্য একটি এসএমই অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তিনি জানান, অন্য ব্যাংকে একই ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে কয়েক দিন সময় লাগলেও ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল অনবোর্ডিংয়ের মাধ্যমে এক ঘণ্টারও কম সময়ে অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন শুরু করতে পেরেছেন। ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট পরিচালনাও তার কাছে সহজ মনে হয়েছে।
বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় আড়াই লাখ এসএমই গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষে এ খাতে ব্যাংকটির ঋণ পোর্টফোলিও দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে এসএমই খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ।
এসএমই গ্রাহকদের আমানতের পরিমাণও বেড়ে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এক বছরে এ আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ।
২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা ব্র্যাক ব্যাংক দেশের এসএমই খাতের অর্থায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ৩১০টি শাখা ও উপশাখা, ৩৩০টি এটিএম, ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট অফিস এবং ১,১১৯টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ব্যাংকটি সারা দেশে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।




