১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২২২১ কোটি ডলার
- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বেড়েছে আমদানি খরচ। আবার বেড়েছে পণ্য আমদানিও। সেই অনুযায়ী বাড়ছে না পণ্য রপ্তানি। ফলে ধারাবাহিক বাড়ছে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২১ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত ব্যালেন্স অব পেমেন্টের (বিওপি) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৯১৭ কোটি ৩ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২১ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে (এপ্রিল) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩০৪ কোটি বা ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৬০১ কোটি ডলারের। আর অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮২২ কোটি ৫ লাখ ডলারের। এই সময়ে রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি হয়েছে ২ হাজার ২২০ কোটি ৯ লাখ ডলার।
জুলাই-এপ্রিলে পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৬০১ কোটি ডলারের। একই সময়ে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮২২ কোটি ডলারের
এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ৫৮ কোটি ৬ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিলে) চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি ৩ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে ৪৮ কোটি ৭ লাখ ডলার।
চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট হলো একটি দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্টের (বিওপি) অন্যতম প্রধান উপাদান। পণ্য ও সেবার নিট বাণিজ্য, বিদেশ থেকে আসা আয় ও রেমিট্যান্সের মতো চলতি হস্তান্তর এর অন্তর্ভুক্ত।
তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ৩৫৫ কোটি ৩ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিলে) দেশের আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৭ কোটি লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ট্রেড ক্রেডিটে ৩২২ কোটি ৭ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। আর অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ট্রেড ক্রেডিটে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ কোটি ১ লাখ ডলার।
আলোচ্য সময়ে দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৩৬৭ কোটি ২ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। আর অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৭৪ কোটি ১ লাখ ডলার।




