তামাকের করকাঠামো সংস্কারের তাগিদ

সংগৃহীত ছবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমানো, সুনির্দিষ্ট শুল্ক প্রচলন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানো হলে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ দুটোই সম্ভব হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মা আয়োজিত বাজেট-িপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব মতামত তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদ ও তামাকবিরোধী নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য অধিক সহজলভ্য ও সস্তা হয়ে পড়বে। সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকপণ্যের ব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, সরকার বর্ধিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত এবং তামাক কোম্পানি লাভবান হবে।
অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলছিলেন, ‘সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সবস্তরে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবে।’
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেছেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন মূল্য ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রাম ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।
আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক মনির হোসেন লিটন, সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের প্রমুখ।




