সৃজনশীল খাতে ঠাঁই হচ্ছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অর্থনীতির সৃজনশীল খাতে এবার ঠাঁই হচ্ছে প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষের। দেশের ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলমান ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’তে তাদের সম্পৃক্ত করে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ও প্রায় ১৩ লাখ অনগ্রসর মানুষ রয়েছে দেশে। তাদের মধ্যে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাচ্ছে সাড়ে ৩৪ লাখ প্রতিবন্ধী এবং ২ লাখ ২১ হাজার ৩৮৯ জন ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’র মানুষ। বাকি ২৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষই রয়েছে সরকারি কর্মসূচির সুবিধাবঞ্চিত। সমাজের অবহেলিত এই দুই শ্রেণির মানুষের উন্নয়নে সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় নতুন প্রকল্প নিতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের খসড়া পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। বিষয়টি একেবারেই নতুন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জাতীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ৪৬ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তাদের ৯৮ শতাংশ কোনো না কোনো সময় বৈষম্যমূলক আচরণ ও নিগ্রহের শিকার হন। সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে থাকা, চরম অবহেলিত ও উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীকে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বলা হয়। যাদের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখেরও বেশি। এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তরা হলেন— জেলে, ঋষি, বেহারা, নাপিত, ধোপা, নিকারী, কাওড়া, তেলী, সুইপার, মেথর, ডোমার, ডোম, বাঁশফোর, হাড়ি ও বেদে সম্প্রদায়।
জানা গেছে, দেশের প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা সাড়ে ৩৪ লাখ। যারা মাসিক ভাতা পান ৯০০ টাকা করে। আগামী বাজেটে এই সুবিধায় যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। এক্ষেত্রে ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির পরিমাণও।
এদিকে, চলতি বাজেটে ২ লাখ ২১ হাজার ৩৮৯ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষকে মাসিক ৬৫০ টাকা হারে ভাতা দিচ্ছে সরকার। আগামী বাজেটে আরও ৭ হাজার মানুষকে ভাতার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ভাতার পরিমাণও একই রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই দুই খাতের প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে টার্গেট করে সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনা এবং এর রূপরেখাও তুলে ধরবেন। সাধারণভাবে সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে চলচ্চিত্র, নাচ, গান, নাটক, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার, ভিডিও গেমস ইত্যাদিকে বোঝানো হয়।
জানা গেছে, ঢাকার পূর্বাচলে ১০০ একর জায়গার ওপর একটি সৃজনশীল কেন্দ্র (ক্রিয়েটিভ হাব) করা হবে। এ ছাড়া দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে হবে সৃজনশীল কেন্দ্র। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ব্র্যাক যৌথভাবে এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে।




