সেমিনারে অর্থনীতিবিদরা
ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই
- প্রচলিত বাজেট কাঠামোতে সংস্কার আনা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্যাংক খাতের সংকট, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা, পুঁজিবাজারের দুর্বলতা এবং ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা দূর করতে আরও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি (বিইএ) আয়োজিত ‘ডিবেট বাজেট অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনারে এ দাবি
জানান তারা।
ব্যাংক খাতের চলমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো নুরুল আমিন বলেছেন, ‘খাতটির পুনরুদ্ধারে এখনো সুস্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ দেখা যাচ্ছে না। গত অর্থবছরে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে এবং চলতি বাজেটেও প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তার বিষয় রয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কবে নাগাদ ব্যাংকগুলো কার্যকর ও আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বললেন, দেশের মোট আর্থিক লেনদেনের প্রায় ৮৫ শতাংশই ব্যাংক খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করতে হলে সবার আগে ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ অনুযায়ী খেলাপি ঋণের হার ১২ শতাংশের বেশি হলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশেও এখন সেই সংস্কারের সময় এসেছে।
অন্যদিকে আইসিবির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, এ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য শক্তিশালী বেসরকারি বিনিয়োগ ও চাহিদা প্রয়োজন কিন্তু বর্তমানে বেসরকারি খাত কাঙ্ক্ষিতভাবে এগিয়ে আসছে না।
তার মতে, উচ্চ সুদহার এবং কঠোর মুদ্রানীতি বিনিয়োগের পথে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীতিসুদ দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে রাখার ফলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদহার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের প্রচলিত বাজেট কাঠামোতে সংস্কার এনে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বললেন, ‘স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমরা বাজেটের প্রচলিত মডেলে কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। সরকার ঐতিহ্যগত বাজেট কাঠামো থেকে সরে এসে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে চায়।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে একটি পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থেকে গেছে।
তিনি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বললেন, ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ মানে হলো বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।’
সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক ও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা। এদের মধ্যে কামার, কুমার, কুটিরশিল্পের কর্মী, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীও রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।




