আড়াই হাজার কোটির সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতা বাড়াচ্ছে সংকট। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বিকল্প জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে রামপালে দেশের অন্যতম বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পটি আজ বুধবার উঠছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির জন্য বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে অর্থায়নের বিষয়টি নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এটিসহ মোট ১২টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে এই একনেক বৈঠকে।
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে। প্রকল্পটি বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত প্রধানত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সংবেদনশীল। সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জীবাশ্ম জ্বালানির (গ্যাস/তেল/কয়লা) ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি সরকারের ফুয়েল ডাইভারসিফিকেশন কৌশল বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এ ছাড়া কার্বনডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক গ্যাস নিঃসরণ সম্পূর্ণ শূন্য থাকবে, যা সুন্দরবন এলাকা পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে কার্বন ক্রেডিট অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পটির জন্য সমীক্ষা করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে এবং বাস্তবায়ন শেষে প্ল্যান্ট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এর আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নীতিগত সম্মতি নেওয়া রয়েছে।
স্থান নির্বাচনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি রামপাল, ব্লক-বি এলাকার ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) আগেরই অধিগ্রহণকৃত নিজস্ব জমিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণজনিত কোনো জটিলতা নেই এবং প্রস্তাবিত সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিকটস্থ রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের সংযোগ লাইনের মাধ্যমে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে সঞ্চালন করা সম্ভব হবে। ফলে প্রকল্পটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হলো— ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতা বিশিষ্ট সোলার প্যানেল স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। এ ছাড়া গ্রিড টাইড ইনভার্টারস (কিউমিলেটিভ ক্যাপাসিটি ৩৬০ মেগাওয়াট) ও পুলিং সাব-স্টেশন স্থাপন, ৩ কিলোমিটার ডাবল-সার্কিট ২৩০ কেডি ট্রান্সমিশন লাইন এবং উপকেন্দ্রে ৩টি স্থাপন করা হবে। পূর্ত কাজের মধ্যে আছে, অফিসার্স ডরমিটরি, স্টাফ ডরমিটরি এবং রেস্ট হাউজ, ওয়ান স্টোরিড মসজিদ এবং খ্রি স্টোরিড কন্ট্রোল বিল্ডিং। এ ছাড়া পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া, সোলার ফটোভোল্টাইক মডিউল ও মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ইলেকট্রিক্যাল ও (ইনভার্টার, ট্রান্সফরমার, স্ক্যাডা) অন্যান্য যন্ত্রপাতি, গ্রিড ট্রান্সমিশন থাই-৩ কিলোমিটার স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।



