Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় অর্থনীতি

ড. মোস্তাফিজুর রহমান

মার্কিন শুল্কের নেপথ্যে ‘রাজনীতি’

আগামীর সময় প্রতিবেদক
agamir somoy
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১৫:০৪
মার্কিন শুল্কের নেপথ্যে ‘রাজনীতি’

সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্কারোপের নেতিবাচক প্রভাব ও এর পেছনে থাকা ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি মনে করেন, শিশুশ্রম বা জোরপূর্বক শ্রমের (ফোর্সড লেবার) মতো ইস্যুগুলোকে সামনে এনে শুল্ক আরোপের যে কৌশল ওয়াশিংটন নিচ্ছে, তা আসলে প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং এর পেছনে ভূ-রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কৌশলের একটি বড় প্রভাব রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি ইন এফওয়াই ২০২৫-২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত যখন পূর্বে আরোপিত পাল্টা-পাল্টি শুল্ক বাতিল করে দেয়, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট তার বিশেষ ক্ষমতা (৩০১ ধারা) বলে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন—যা আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে জুলাইয়ের পর এই সুবিধা বা সময়সীমা শেষ হতে চলায়, এখন ফোর্সড লেবার বা শিশুশ্রমের অজুহাত দেখিয়ে নতুন করে আবারও ১০ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখার একটি প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের জায়গাটি স্পষ্ট করে এই অর্থনীতিবিদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পণ্যের গড় শুল্ক এমনিতেই ১৫ শতাংশ। এর ওপর আমরা যে চুক্তি করেছি, তা কার্যকর হলে অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ শুল্ক বসবে। ফলে ১৫ আর ১৯ মিলে শুল্ক দাঁড়াবে ৩৪ শতাংশে। তার সাথে যদি বিশেষ ক্ষমতার আরও ১০ শতাংশ যুক্ত হয়, তবে শুল্কের মোট চাপ গিয়ে দাঁড়াবে ৪৪ শতাংশে। অথচ যারা এই চুক্তি করেনি, তাদের কিন্তু ওই ১৯ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে না। পাল্টা-পাল্টি শুল্ক যেখানে ৬০টি দেশের ওপর বসানো হয়েছিল, সেখানে মাত্র ৯টি দেশ এই চুক্তি করেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন বৈষম্যমূলক শুল্ক কাঠামোর ভেতর দাঁড়িয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? এটি এখন সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিবেচনার বিষয়। এই চুক্তিগুলো নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নতুন করে অত্যন্ত জোরালো দ্বিপাক্ষিক দরকষাকষি ও আলাপ-আলোচনা করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩২ লাখ পথশিশু রয়েছে, যারা নানাভাবে নিগৃহীত হচ্ছে এবং পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে আমাদের শিশুরা অনেক সময় শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে একে হাতিয়ার বানিয়ে রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো কোনো টেকসই সমাধান নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে তার ভাষ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই শিশুশ্রম বন্ধ করতে চায়, তবে বাংলাদেশের রপ্তানিতে শুল্কের বোঝা না চাপিয়ে, এই শিশুশ্রম নিরসনে বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট একটি 'সহায়তা তহবিল' বা এইড দিতে পারত। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার চেয়ে এই ধরনের ইতিবাচক সহযোগিতার লাইনে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

মার্কিন শুল্কের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সামষ্টিক অর্থনীতির নানা সংকট নিয়েও কথা বলেছেন ড. মোস্তাফিজুর রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে ধাপে ধাপে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির যে পুঞ্জীভূত প্রভাব অর্থনীতিতে এসেছে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাতের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেছেন, সরাসরি যারা এটি ভোগ করছেন তাদের জন্য এটি অবশ্যই বাড়তি বোঝা। তবে অপ্রত্যক্ষভাবে আমাদের দেশীয় উৎপাদনকারী, রপ্তানিকারী এবং আমদানি প্রতিস্থাপক শিল্পের যে উদ্যোক্তারা আছেন, তাদের সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকার অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপ ও প্রণোদনা দিয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে। সরকার যদি এখানে ইতিবাচক ভূমিকা না রাখে, তবেই উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা শতভাগ সত্যি হবে। এখানে সরকারের নীতিগত সহায়তার বড় সুযোগ রয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনমানের যে অবনমন হয়েছে, সেই বিবেচনায় নতুন পে-স্কেলের যৌক্তিকতা রয়েছে। কারণ, তাদের বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে যে ইনক্রিমেন্ট হয়, তা বর্তমান ইনফ্লেশন রেটের চেয়ে অনেক কম।

তবে এক ধাক্কায় বিশাল অঙ্কের এই ব্যয়ভার সরকারের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, নতুন বাজেটে হয়তো এর একটি সুনির্দিষ্ট 'রোডম্যাপ' বা পথরেখা দিয়ে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সরকারি খাতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং কাজের ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কঠোর 'জবাবদিহিতা' নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। কারণ, সরকারের রাজস্ব আহরণ ও ব্যয়ের সাশ্রয়ী ব্যবহার অনেকাংশেই এই আমলাতন্ত্রের কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।

দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফেরেনি বলে মনে করেন ড. মোস্তাফিজুর রহমান। জুলাই থেকে মার্চ-এপ্রিলের অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তিনি দেখান, বেসরকারি খাতে ক্রেডিট আপটেক (ঋণপ্রবাহ) মাত্র ৫ শতাংশের কাছাকাছি ঘুরপাক খাচ্ছে। ক্যাপিটাল মেশিনারিজ (মূলধনী যন্ত্রপাতি) ও মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানির চিত্রও মন্থর।

তিনি বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছেন না। তারা মূলত অপেক্ষা করছেন আগামী বাজেটে সরকার কী ধরনের রাজস্ব প্রস্তাব, শুল্ক কাঠামো এবং কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেয় তা দেখার জন্য।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেছেন, সরকার বিভিন্ন রিফাইন্যান্সিং স্কিম বা পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে নিজস্ব কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতায় সরকারি উদ্যোগ যদি হয় ১ টাকা, তবে প্রাইভেট সেক্টরের উদ্যোগ হলো ৪ টাকা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

বিনিয়োগকারীদের এই আস্থা অর্জনের বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, উদ্যোক্তা, কর্মসংস্থান ও স্বকর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ গতিপথ কেমন হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে আসন্ন বাজেটের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাসমূহের ওপর।

অর্থনীতিসিপিডি
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise