আগামীর সময়

রোজার আগে বাজারে আগুন, লেবুর হালি ৮০, খেজুরে কেজিতে বাড়তি ৫০

রোজার আগে বাজারে আগুন, লেবুর হালি ৮০, খেজুরে কেজিতে বাড়তি ৫০

ফাইল ছবি

রমজান ঘনিয়ে আসতেই রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মাছ, মাংস, সবজি, পেঁয়াজ, ছোলা, খেজুর, লেবু ও ফলের দামে ঊর্ধ্বগতি সবচেয়ে বেশি চাপ ফেলেছে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর। প্রতি বছর রমজানের আগে যে বাড়তি দামের প্রবণতা দেখা যায়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুম ও সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হলে দাম স্বাভাবিক হতে পারে। তবে ভোক্তাদের উদ্বেগ এখনই কমছে না।

রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া লেবুর হালি এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কোথাও কোথাও ৪০ টাকার লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুরের লেবু বিক্রেতা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, এখন লেবুর মৌসুম না থাকায় সরবরাহ কম। তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মৌসুম শুরু হলে দাম কমবে।

একই বাজারে কথা হয় মনির নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, রোজার আগেই লেবু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তদারকি না থাকায় এমনটা হচ্ছে।

শবেবরাতের পর থেকেই মাংস ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ার কথাও জানিয়েছেন ক্রেতারা। সোনালি মুরগি মানভেদে কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০০ টাকায়। চাষের রুই, তেলাপিয়া ও কাতল মাছেও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রমজানের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই খেজুরের বাজার অস্থির। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড খেজুর আমদানিতে শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েনি। বরং কয়েক জাতের খেজুর কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শুল্ক কমালেও সরবরাহ জটিলতায় দাম কমেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজার

এ বাজারে খুচরায় দাবাস ও বরই খেজুর মানভেদে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা। জাহিদি ২৪০ থেকে ২৫০, আজওয়া ১১০০ থেকে ১৪০০, ছোট সাইজের আজওয়া ৭০০ থেকে ৯০০, মেডজুন ১৩০০ থেকে ১৫০০, মরিয়ম ১০০০ থেকে ১২০০, সুক্কারি ৭০০ থেকে ৭৫০, ছড়া ৫০০ থেকে ৭০০, কালমি ৮০০ থেকে ৯০০ এবং সুগাই ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা নিজেরা দাম বাড়াননি, বেশি দামে কিনতে হয়েছে। আমদানিকারকদের ভাষ্য, চট্টগ্রাম বন্দরে টানা শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাসে ব্যাঘাত ঘটেছে। এতে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়ে খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

বাদামতলী বাজার

দেশের অন্যতম বড় ফলের পাইকারি এই আড়তের আমদানিকারকেরা বলছেন, বন্দরের অচলাবস্থার কারণে সময়মতো খেজুর খালাস করা যায়নি। এতে প্রায় দুই সপ্তাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। বন্দর স্বাভাবিক হলে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমতে পারে বলে তাঁদের আশা।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, দেশে বছরে প্রায় ৯০ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। এর বড় অংশ বিক্রি হয় রমজানেই।

এদিকে শীত শেষ না হতেই সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি। করলা ১২০ থেকে ১৪০, ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১২০, কাঁচা মরিচ ১৬০, বেগুন ৬০ থেকে ১০০, শসা ৮০, টমেটো ৫০ থেকে ৬০, লাউ ৬০ থেকে ৭০, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ এবং শিম ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ কেজি ৬০ টাকা। দেশি রসুন ১২০, চায়না রসুন ১৬০, আদা ১৪০ থেকে ১৮০, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ এবং চিনি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজান সামনে রেখে বাড়তি ব্যয় কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ।

    শেয়ার করুন: