‘ঈদ আনন্দ স্পর্শ করে না বনকর্মীদের’

ছবি: আগামীর সময়
এবারও পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন না সুন্দরবনের বনকর্মীরা। শিকার প্রতিরোধ ও বন অপরাধ ঠেকাতে এবারও ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনবিভাগ। এর আগে ঈদুল ফিতরেও ছুটি পাননি বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বনবিভাগ জানিয়েছে, ঈদ মৌসুম এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে হরিণ শিকারী ও বিষ দিয়ে মৎস্য অহরণকারী দুর্বৃত্তরা। তাদের প্রতিহত করতেই ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম।
বন অপরাধ দমনে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে আগে থেকেই সক্রিয় রয়েছে স্মার্ট টিমের কার্যক্রম। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে আরও তিনটি স্পেশাল টিম। বনের অপরাধপ্রবণ এলাকায় সার্বক্ষণিক টহলে নিয়োজিত থাকবেন এসব টিমের সদস্যরা।
পূর্ব বন বিভাগের চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানালেন, সরকারি ছুটির দিন কিংবা ঈদের আনন্দ—কোনো কিছুই আমাদের স্পর্শ করে না। যখন পুরো দেশের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবের আমেজে মেতে থাকে, তখন আমরা বনকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনের এই গভীর অরণ্যে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করি।
ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা। বললেন, শুধুমাত্র ঝুঁকিভাতা ছাড়া আমরা সরকারি আর কোনো সুযোগ-সুবিধা পাই না। দীর্ঘ ২৮ বছর যাবত কোনো পদোন্নতি ছাড়াই আমরা একই পদে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছি। বনের সুরক্ষায় আমাদের এই ত্যাগ আর কতকাল উপেক্ষিত থাকবে? বঞ্চিত সহকর্মীদের পক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি এমন প্রশ্ন রাখলেন তিনি।
পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বললেন, ঈদের ছুটির সুযোগে হরিণ শিকারীরা তৎপর হয়ে ওঠে। এ ছাড়া বেড়ে যায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার প্রবণতা। এতে চরম হুমকিতে পড়ে বনের জীববৈচিত্র্য।
বন অপরাধ এবং দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা ঠেকাতে বেশ কয়েক বছর ধরে দুই ঈদে ছুটি দেওয়া হয় না বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তবে ঈদের পরে পর্যাক্রমে ছুটি ভোগ করতে পারবেন তারা, যোগ করেন তিনি।






