কেন্দুয়ায় দুর্গাপূজা ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

উপজেলার ৪৪টি পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ছবি: আগামীর সময়
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার ৪৪টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ কোথাও শেষ পর্যায়ে। আবার কোনো মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। পাশাপাশি রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলো পাচ্ছে শেষ রূপ। পাশাপাশি চলছে মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দুয়া পৌরসভার শ্রী শ্রী হরিসভা দুর্গামন্দির, পূর্বরায় সার্বজনীন দুর্গামন্দির, কান্দিউড়া সাহাপাড়া দুর্গামন্দির, মোজাফফরপুর বর্মন পাড়া দুর্গামন্দিরসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা ব্যস্ত প্রতিমার চোখ-মুখ, পোশাক ও অলংকারের কাজে। কেউ তুলিতে রঙ করছেন, কেউ ব্যস্ত সূক্ষ্ম কারুকাজে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় দিন-রাত কাজ করছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
কেন্দুয়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজল কুমার সরকার জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলেও মণ্ডপের সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। এবার কেন্দুয়া উপজেলায় মোট ৪৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে যা গত বছরের চেয়ে ২টি বেশি। এর মধ্যে ৩৮ টি স্থায়ী এবং ৬ টি অস্থায়ী।
প্রতিমাশিল্পী দিলীপ পাল জানিয়েছেন, ছোট বেলা থেকে প্রতিমা তৈরী করেন তিনি। প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর, রঙ ও তুলির কাজই প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়। বিশেষ করে চোখ-মুখের অভিব্যক্তি ও অলংকারের কাজে বাড়তি যত্ন নিতে হয়। তাই পূজার আগমুহূর্তে তাদের ব্যস্ততাও বেড়েছে।
পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, পূজার সময় উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া প্রতিটি মন্ডপেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বললেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো দুর্গাপূজা। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’




