আগামীর সময়

বিএনপিকর্মীর মৃত্যুতে জামায়াতের তিনজন গ্রেপ্তার

বিএনপিকর্মীর মৃত্যুতে জামায়াতের তিনজন গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিএনপিকর্মী মাসুমের মৃত্যুর ঘটনায় হয়েছে হত্যা মামলা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াতের তিন কর্মীকে। 


নিহতের ভাই সোমবার সকালে শরণখোলা থানার ১৬ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। 


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, সোনাতলা গ্রামের খলিল বয়াতি, শাহজালাল বয়াতি ও তানজের হাওলাদার। তারা জামায়াতের কর্মী বলে জানিয়েছেন থানার ওসি শামিনুল হক।

নিহত ২৬ বছরের আরিফুল ইসলাম মাসুম থাকতেন মালয়েশিয়ায়। তার বাড়ি খুড়িয়াখালী গ্রামে। শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন জানিয়েছেন, দলের বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে সক্রিয় ছিলেন মাসুম।


পরিবারের বরাত, শ্বশুরবাড়ি থেকে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন মাসুম। স্থানীয় জামায়াতকর্মী আফজাল বয়াতির নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের দল পথে আটকে তাকে মারধর করে।


এজাহারের বরাতে ওসি শামিনুল বললেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন মাসুমের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। রবিবার রাত ৯টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে তার দেখা হয়। বিরোধের জেরে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয়।’


সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটনের ভাষ্য, ‘তারাবির নামাজের পরে খবর পাই যে মাসুমকে জামায়াতের কর্মীরা মারধর করে আটকে রেখেছে। স্থানীয় তাফালবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও স্থানীয় সাউথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে যাওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় মাসুমকে দুই-তিন জন ধরে আমাদের কাছে নিয়ে আসে। তার কাছে ঘটনা জানতে চাইলে হঠাৎ বমি করে।’


মাসুমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাতেই ঘটনাস্থল থেকে জামায়াতের তিন কর্মীকে আটক ও পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছেন ওসি।

‘গ্রেপ্তার তিনজন বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন’- যোগ করেন তিনি।


শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলনের অভিযোগ, ‘সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে মাসুমের বিরোধ ছিল। এর জেরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’


অভিযোগ নাকচ করে বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমের ভাষ্য, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে আরিফুলকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এটাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়েছে বিএনপি।’


এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি আব্দুল আলীমের।

    শেয়ার করুন: