হিলিতে বাড়ছে কাঁচামরিচের চাষ, লাভে খুশি কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে কাঁচামরিচের চাষ। কম খরচে উৎপাদন, তুলনামূলক সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় ধানসহ অন্যান্য ফসলের বদলে কাঁচামরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার ফলনও হয়েছে ভালো। এর সঙ্গে বাজারে চড়া দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট চাষিরা।
সরেজমিন উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাঙ্গাপাড়া, বোয়ালদার, খাট্টামাধবপাড়া ও আলীহাট এলাকার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়েছে কাঁচামরিচ। ক্ষেতজুড়ে ঝুলছে সবুজ মরিচ। কেউ মরিচ তুলছেন, কেউ তা বস্তায় ভরছেন। সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
স্থানীয় কৃষকরা এবার উচ্চফলনশীল ‘মিসাইল’ জাতের মরিচ চাষ করেছেন। কৃষকদের ভাষ্য, ধান বা অন্যান্য দানাদার ফসলের তুলনায় মরিচ চাষে ঝুঁকি কম এবং আয় তুলনামূলক বেশি। একবার চারা রোপণ করার পর কয়েক মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। ফলে একই জমি থেকে বারবার মরিচ বিক্রি করে আয় করার সুযোগ থাকায় প্রতিবছরই বাড়ছে চাষের পরিমাণ।
কৃষক ইয়ানুল ইসলাম ও মাজেদুল হক বলেন, ‘এ বছর মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় দামও বেশি। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ থাকছে। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে মরিচ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।’
হিলির কাঁচামরিচের মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, বগুড়াসহ বড় বড় শহরে যাচ্ছে এসব মরিচ। এতে কৃষকের পাশাপাশি পরিবহন, বাছাই ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষেরও কর্মসংস্থান হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগেও হাকিমপুরে কাঁচামরিচ চাষের পরিমাণ ছিল মাত্র দুই হেক্টর। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট হেক্টরে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে চাষের জমি বেড়েছে চার গুণ।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আরজেনা বেগম বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। কৃষকদের মানসম্মত বীজ নির্বাচন, সুষম সার ব্যবহার এবং পোকামাকড় দমনে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে কাঁচামরিচের চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারে কাঁচামরিচের ন্যায্যমূল্য অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে হিলির কৃষিতে কাঁচামরিচ নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করবে।




