স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা বাঁধা ছাত্রী উদ্ধার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খুলনার দিঘলিয়ার গাজীরহাট হাজী নঈম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্মাণশ্রমিকরা বাথরুমে গোঙানির শব্দ পান। এরপর তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি হয়। এরপর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক একটি বাথরুমের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। কাছে গিয়ে নারীকণ্ঠের গোঙানি শুনে তাদের সন্দেহ হয়। পরে বাথরুমটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে তারা তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ছাত্রীটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক মফিজুর রহমান শাফিনের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাত্রীর মায়ের দাবি, স্কুল ছুটির পর বাথরুমে ঢোকার সময় পেছন থেকে কেউ তার মেয়ের মাথায় আঘাত করে। এতে সে মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে রেখে যায়। তার আরও অভিযোগ, মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কাটার চিহ্ন রয়েছে।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্কুল ছুটির পর বাথরুমের কাছে দুজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিল। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে তারা বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে তার মাথায় আঘাত করার পর অচেতন অবস্থায় মুখে টেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে ফেলে রাখা হয়।
ওসি বলেন, পরে জ্ঞান ফিরলে ছাত্রীটি শব্দ করতে থাকে। সেই শব্দ শুনেই নির্মাণশ্রমিকরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর ছাত্রীটি স্বজনদের কাছে কিছু কথা বলেছে। সে হামলাকারীদের কাউকে চেনে না বলে জানিয়েছে।
হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুম আরও বলেন, ছাত্রীটির সঙ্গে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, নির্মাণশ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।







