রাজবাড়ীর ১২৬ মন্দির ঝুঁকিপূর্ণ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকের বাদ্য, মণ্ডপ সাজানোর ব্যস্ততা আর প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের রঙের আঁচড় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজবাড়ীর বিভিন্ন মন্দিরে এখন উৎসবের আমেজ। পূজার আনন্দে যখন মেতে ওঠার প্রস্তুতি চলছে, তখন নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক প্রশাসন ও মন্দির কমিটিগুলো। বিশেষ করে জেলার ১২৬টি মন্দিরকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করায় এসব মন্দিরে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, উৎসবের আনন্দে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছায়া ফেলতে না পারে, সে জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, আনসার, স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরাও মাঠে থাকবেন। কোথাও থাকবে সিসি ক্যামেরার নজরদারি, কোথাও থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।
পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার রাজবাড়ী জেলায় ৪৬১টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৮৬টি মন্দির ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৩৩৫টি মন্দিরকে সাধারণ হিসেবে ধরা হয়েছে।
নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে জেলার ৩০৫টি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তবে এখনো ১৫৬টি মন্দির সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে।
উপজেলাভেদে নিরাপত্তার চিত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। জেলার সবচেয়ে বেশি ১৫৮টি মন্দির রয়েছে বালিয়াকান্দি উপজেলায়। এর মধ্যে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ১২৯টি মন্দির সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব মন্দিরের ৭২টিতে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, আর ৮৬টিতে নেই।
পাংশায় রয়েছে ১০৪টি মন্দির। এর মধ্যে ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ, ১০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৬টি সাধারণ। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এ উপজেলায় রয়েছে বড় একটি সুবিধা—সব ১০৪টি মন্দিরই সিসি ক্যামেরার আওতায়।
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১১৮টি মন্দিরের মধ্যে ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ, ৩টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০৭টি সাধারণ। এর মধ্যে ৫০টিতে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, ৬৮টিতে নেই।
গোয়ালন্দ উপজেলায় ২৬টি মন্দিরের মধ্যে ৭টি ঝুঁকিপূর্ণ, ৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৫টি সাধারণ। ২৪টি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা থাকলেও ২টি এখনো এর বাইরে।
অন্যদিকে কালুখালী উপজেলার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানকার ৫৫টি মন্দিরের মধ্যে ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সাধারণ মন্দির ১৮টি। তবে নিরাপত্তা নজরদারির ক্ষেত্রে সব ৫৫টি মন্দিরই সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে।
পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, দুর্গাপূজায় পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, এসআরবি, আনসার, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে জেলা পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপে মানুষের ভিড় বাড়বে, সন্ধ্যার পর বাড়বে আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেই ভিড়ের মধ্যেই যাতে নিরাপত্তার কোনো ফাঁক তৈরি না হয়, সেটিই এখন পুলিশের বড় লক্ষ্য। প্রশাসনের প্রত্যাশা, নিরাপত্তার এই প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতে ধর্মীয় সম্প্রীতির আবহে নির্বিঘ্নে শেষ হবে দুর্গোৎসব।
মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





