খরস্রোতা খাল নাকি ময়লার ভাগাড়!

ছবি: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া রহমতখালী খাল একসময় ছিল শহরের প্রাণ। খরস্রোতা সেই খাল এখন ময়লার ভাগাড়। দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। এতে বাড়ছে জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারি, জকসিন ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে বইছে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ রহমতখালি খাল। এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে একসময় ভোলা-বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে পণ্য পরিবহন করতেন। এখন মৃতপ্রায় খালটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহর ও আশপাশের বাজার এলাকার ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং বাসাবাড়ির মানববর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে খালে। পানি কালো হয়ে চারদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। অনেক স্থানে কচুরিপানা জমে পুরোপুরি বন্ধ পানি প্রবাহ।
‘একসময় এই খালের পানি দিয়ে মানুষ গোসল করত, মাছ ধরত। এখন খালের পাশে দাঁড়ানোই কষ্টকর। দুর্গন্ধে বসবাস করা দায় হয়ে গেছে’- বললেন স্থানীয় মো. আবুল কালাম।
আরেক বাসিন্দা রাশেদা বেগমের অভিযোগ, ‘বর্ষা এলে পানি নামতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মশা-মাছির উপদ্রবও অনেক বেড়েছে। শিশুদের নানা রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।’
গত বছরের বন্যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কয়েক ইউনিয়ন এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ছিল পানিবন্দি। এর অন্যতম কারণ, রহমতখালী খালের পানি প্রবাহে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা, মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। খালের জায়গা দখল করে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদে অনেক ক্ষেত্রে উদাসীন প্রশাসন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান জানালেন, রহমতখালী খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যায়ক্রমে খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে। অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ও করা হচ্ছে।





