কুপিয়ে প্রতিবন্ধী যুবককে খুন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীর

কুমিল্লায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বাহারকে। প্রতীকী ছবি, গ্রাফিকস : আগামীর সময়
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় নিহত হয়েছেন এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার (৩৫) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় প্রতিবেশী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক নারীর দাবি, ধর্ষণচেষ্টা থেকে আত্মরক্ষা করতেই বাহারকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তিনি। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে প্রতিবন্ধী যুবককে।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার দত্তপুর গ্রামের ঘটনা এটি। হত্যার পরে ওই নারী নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং অভিযুক্ত নারীকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, নিহত বাহারের বাড়ির পাশেই সৌদি আরবপ্রবাসী সুমন চৌধুরী ওরফে রাসেলের বাড়ি। প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে বাহারের পরকীয়া প্রেম ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে তার স্ত্রীকে চাপ দেয় প্রবাসী রাসেল। এতে বাহারের কাছ থেকে দুরত্ব বজায় রাখে ওই নারী। প্রায় এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে এক সপ্তাহ আগে কর্মস্থলে ফিরে যান রাসেল। এর পর শনিবার সকালে বাহার ওই নারীর ঘরে গেলে ঘটে এ ঘটনা।
আটক নারীর ভাষ্য, স্বামী প্রবাসে থাকায় ছোট ছোট সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন তিনি। সেই সুযোগে প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন বাহার। এ বিষয়ে আগে র্যাবের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। অভিযোগের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও স্বামী বিদেশে ফিরে যাওয়ার পর বাহার আবার ঘরে ঢুকে তাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরে ঢুকেই আমার শরীরে স্পর্শ করে এবং জোরজবরদস্তি করে ধর্ষণের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে আমি বাঁচার জন্য বটি দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করি। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। পরে আমি নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দিই।’
অন্যদিকে নিহতের মা নেহারা বেগমের দাবি, তার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই হাতের কবজি ও আঙুল কার্যকর না থাকায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারতেন না। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী নারী ঘরে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে আত্মরক্ষার্থে হত্যার দাবি করেছেন আটক নারী। ঘটনার পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন তিনিই। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




