আগামীর সময়

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের প্রথম নারী এমপি আফরোজা খানম রিতা

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের প্রথম নারী এমপি আফরোজা খানম রিতা

ছবিঃ আগামীর সময়

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এই প্রথম নারী সংসদ সদস্য পেল মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ভোটাররা। আসনটিতে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা। আসনের ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টিতেই জিতেছেন তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, আফরোজা খানম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। ফলে এক লাখ তিন হাজারের বেশি ভোটে এই আসনের প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন।

জেলার রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, বেশকিছু কারণে ভূমিধ্বস জয় পেয়েছেন আফরোজা খানম রিতা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তিনি নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি প্রান্তে ভোটারদের কাছে ছুটে বেড়িয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে থাকা বিভেদ ভেঙে একত্র করা, জুলাই আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখা, সংখ্যালঘু, নারী ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ায় তার ভূমিধ্বস বিজয় সম্ভব হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তারা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, বাবা হারুণার রশিদ খান মুন্নুর উত্তরসূরি হিসেবেও নির্বাচনে বিজয়ের পথ সুগম হয়েছে আফরোজা খানমের। তাঁর বাবা চারবার সংসদ সদস্য থাকাকালে নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত অর্থ সহায়তা করেছেন। বাবার সেই কাজও তাঁর নির্বাচনে বিজয়ে সহায়তা করেছে।

এদিকে মানুষের ভালোবাসা ও ভোটারদের আস্থার কারণেই এই বিজয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষের মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলাকে তিনি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, আফরোজা খানমের বাবা প্রয়াত হারুণার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন এই আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। মূলত বাবার হাত ধরেই তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী বাবা হারুণার রশিদ খানের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের শুরু আফরোজা খানমের। এরপর জেলা ও রাজধানী ঢাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে অংশ নেন তিনি। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (হরিরামপুর ও সিঙ্গাইর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বছর ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে ৪৫ কাউন্সিলের প্রত্যক্ষ ভোটে ৪২ ভোট পেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। গত ২ ফেব্রুয়ারি আফরোজা খানমকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির সাত সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যও।

    শেয়ার করুন: