বরিশাল সিটি করপোরেশন
৬০০ কোটির কাজ শুরুর বাধা কাটল
- ৩৩০টি ভবনের নকশা অনুমোদন
- ১৫-২০ দিনের মধ্যে নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা
- কয়েক বছর অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল ৭০০ ভবনের নকশা
- ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার আলো

দীর্ঘদিন পর বরিশাল নগরীতে ভবনের নকশা অনুমোদন চালু হওয়ায় ভবন নির্মাণে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষ খুশি। আর নকশা অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে পেশা ছেড়ে দেওয়া নির্মাণশ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা নতুন করে দেখছেন আশার আলো।
আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পাঁচ বছরের মেয়াদকালে হাতেগোনা কয়েকটি ভবনের নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহর সাত মাসের মেয়াদকালেও মাত্র কয়েকটি ভবনের নকশা অনুমোদিত হয়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা দুই বিভাগীয় কমিশনারের সময়েও ভবনের নকশার অনুমোদনে আবেদনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছিল। তবে এবার নতুন প্রশাসক একসঙ্গে ৩৩০টি ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়ায় বেশ খুশি আবেদনকারীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভবনের নকশা অনুমোদনের কারণে। ভবন নির্মাণকাজ শুরুও করে দিয়েছে অনেকে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান আগামীর সময়কে বললেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে বিলকিস জাহান শিরিণ গত ১৫ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচতলা ভবন ৫৪টি, ছয়তলা ১৫টি এবং একতলা থেকে চারতলা ১৩৭টি ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আটকে থাকা ১২৪টি ভবনের নকশার বিভিন্ন ত্রুটি সমাধান করে তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সাইদুর বলেছেন, সিটি করপোরেশনে ৭০০ নকশা জমা ছিল; যার মধ্যে বর্তমান প্রশাসক ৩৩০টি নকশা অনুমোদন করেছেন।
সিমেন্ট ও লৌহজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী সমিতি বরিশালের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরার ভাষ্য, ভবনের নকশা অনুমোদন হওয়ায় ৩০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে বরিশাল নগরীতে। যেসব নির্মাণশ্রমিক পথে বসেছিলেন এবং যেসব ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন বা পরিবর্তনের চিন্তা করেছেন, তারা হয়তো আপাতত রক্ষা পাবেন। ভবন নির্মাণ হলেই তো আমাদের রড ও সিমেন্ট ব্যবসা জমজমাট থাকবে। নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায় নতুন দিগন্ত তৈরি হবে।
নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং ডিজাইন সিস্টেমের স্থপতি মিলন মণ্ডল জানিয়েছেন, নকশাভেদে ২ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি পাঁচতলা ভবন তৈরিতে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা খরচ হয়। ৩০০ ভবনের নকশা অনুমোদনের ফলে বিশাল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেছেন, ‘৪ শতাংশ জায়গায় পাঁচতলা ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদনের জন্য আড়াই বছর আগে আবেদন জমা দিয়েছিলাম। গত মাসে অনুমোদন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমার মতো অনেকে নকশা অনুমোদন নিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। প্ল্যান অনুমোদন শুরু হওয়ায় আমরা বেশ খুশি।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রেস সচিব সাকলাইন মোস্তাক মন্তব্য করেন, ভবনের নকশা অনুমোদন না হওয়ায় বরিশাল নগরীতে ভবন নির্মাণ ও আবাসন খাতে একধরনের স্থবিরতা চলে আসছিল ২০১৮ সাল থেকে। আবেদনের পর আবেদন পড়েছে, তবে তার দিকে ভ্রূক্ষেপ করেননি কোনো মেয়র। আমাদের আহ্বান থাকবে নগরবাসী যেন সশরীরে এসে নিজের সমস্যা নিয়ে নগর ভবনে সরাসরি কথা বলেন এবং কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক বরিশালের সমন্বয়ক রফিকুল আলমের ভাষ্য, কাগজপত্র ঠিক থাকলে একটি ভবনের নকশা অনুমোদনে দেড় থেকে দুই মাসের বেশি সময় যে লাগে না, সেটি এই প্রশাসকের আমলে প্রমাণিত হয়েছে। ভবনের নকশা অনুমোদনের ফলে স্থানীয় শ্রমিক, নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ীসহ পুরো বরিশাল অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান বলেছেন, ‘গ্রাহক যেটি চাহিদা করছে, অনেক সময় সেটি বিধিবহির্ভূত হয়ে যায়। যে কারণে আমরা সবকিছু ফুলফিল করতে পারি না বা খানিকটা দেরি হয়। এসব বিষয় গ্রাহকদের বোঝানোটাও কষ্টসাধ্য। এখনো করপোরেশনে প্রায় ৪০০ নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিণ বলছিলেন, ‘আমরা ভবনের প্ল্যান অনুমোদন নিয়ে অলরেডি একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছি। যদি সব কাগজপত্র ঠিক থাকে, তাহলে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ১৫-২০ দিনের মধ্যে প্ল্যান দিতে পারব।’


