জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি টুঙ্গিপাড়ার শতাধিক পরিবার

জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার। ছবি: আগামীর সময়
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাটগাতী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসতঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, উঠান, সড়ক ও কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবার অনেক পরিবারের ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে থাকায় রান্না করতে পারছেন না অনেকে। কেউ একবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
জলাবদ্ধতার কারণে বাথরুমও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সেপটিক ট্যাংকের ময়লা পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। এতে শিশু ও বয়স্কদের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাতে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কেও থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামটিতে কবরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও গণশিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা পানিতে তলিয়ে যায়। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যায় ভুগলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার আবেদন ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে নানা প্রতিশ্রুতিও। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সামসুরনাহার বললেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে ঘরের ভেতরে পানি উঠে গেছে। এই অবস্থায় রান্না করা, খাওয়া কিংবা বাথরুম ব্যবহার—কোনোটাই স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। আমরা এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চাই।’
পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুত পানি অপসারণের কাজ শুরু হবে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিদারুল আলম জানিয়েছেন, টুঙ্গিপাড়া নিচু এলাকা হওয়ায় ভারী বৃষ্টি হলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর জরুরি ভিত্তিতে পানি অপসারণের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যান ও পৌরসভার প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





