সোনারগাঁ
বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, সংঘর্ষে আহত ১১

ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ার চর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৬ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সঙ্গে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার রড নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা কার্যালয়ের দরজা-জানালা, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে। এ সময় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ, ৬ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ কয়েকজন বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে ৬ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হন। অন্যপক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খান ও ডালিমও আহত হয়েছেন।
আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে বাবুল বেপারী ও আবু বকর সিদ্দিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের দাবি, ঈদুল ফিতরের দিন মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই আব্দুল জলিল তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিএনপির কার্যালয়ে বসে কথাবার্তার একপর্যায়ে জলিলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার দুই ছেলেসহ আট নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা কার্যালয়ের দরজা-জানালা, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের ভাষ্য, গত বছর আব্দুর রউফ তাদের গ্রামের নিরীহ মানুষের বাড়িতে আগুন দিয়েছিলেন। ওই মামলায় তাকেও আসামি করা হয়েছিল। পরে পুলিশের তদন্তে তার অনুসারী পাঁচজনকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় আব্দুর রউফ আদালতে হাজিরা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে মহড়া দেন বলে তিনি দাবি করেন।
জলিল আরও দাবি করেন, বিষয়টি জানতে তিনি বিএনপি কার্যালয়ে গেলে তাকে জোরপূর্বক ধরে আটকে মারধর করা হয়। পরে তার নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হামলা ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। চিকিৎসা শেষে উভয়পক্ষ অভিযোগ দেবে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।’







