পাইলসের অপরেশনে ইনজেকশন দেওয়ার পর রোগীর মৃত্যু, পালালেন গ্রাম্য চিকিৎসক

ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পাইলসের চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি। সেখানে ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারান তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, পাইলসের অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি হিসেবে ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই খিঁচুনি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর চেম্বারে মরদেহ রেখে অভিযুক্ত চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের দাসকাটি এলাকার জোবেদা ক্লিনিক নামের একটি চেম্বারে।
নিহত আলমগীর হোসেন উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ক্লিনিক পরিচালনা করে আসছেন। তার চিকিৎসা-যোগ্যতা ও ক্লিনিক পরিচালনার অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কোনো আইনি অনুমোদন বা সার্জারির যোগ্যতা না থাকলেও তিনি সেখানে পাইলসের মতো জটিল অস্ত্রোপচার করে আসছিলেন বলে দাবি তাদের।
নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার সকালে পাইলসের চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও জামাইকে সঙ্গে নিয়ে দাসকাটি ব্রিজের পাশে গোলাম মোস্তফার চেম্বারে যান আলমগীর। সেখানে চিকিৎসক তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি হিসেবে আলমগীরের শরীরে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর পরপরই তার তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসক মরদেহ চেম্বারে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, ‘আলমগীরকে চেম্বারে নেওয়ার পর চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের কথা জানান। ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরে খিঁচুনি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। পরে ওই চিকিৎসক মরেদহ রেখেই পালিয়ে যান।’
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক। পুলিশ বিষয়টি তদারকি করছে। নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলা বা লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী মরদেহের ময়নাতদন্ত এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





