১৫ ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা, চাপে কৃষি কর্মকর্তা
- শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সারে অনিয়মের অভিযোগ

শেরপুর সদর উপজেলায় প্রায় ১৪ কোটি টাকার সরকারি সার বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগে ১৫ জন বিসিআইসি ডিলার ও তাদের পাঁচজন ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। তবে মামলা করার পর থেকেই নিজ দপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ নিয়ে কৃষি বিভাগে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর থানায় মামলাটি করেন আনোয়ার হোসেন। এরপর ২৬ জুলাই পদোন্নতি পেয়ে তিনি বদলি হন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। তার দাবি, মামলা করার আগেও বিষয়টি নিয়ে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি ছিলেন দপ্তরে। গত জুলাই মাসে তিনি কারণ দর্শানোর নোটিস পান আটটি। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি জীবন ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছেন।
আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পদাধিকারবলে শেরপুর সদর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। উপজেলায় ১৫ জন বিসিআইসি ও ৫৫ জন বিএডিসির ডিলার রয়েছেন। তার অভিযোগ, বিসিআইসির ডিলারদের একটি অংশ গত কয়েক মাসে বিভিন্ন কৌশলে সরকারি সার সরিয়ে ফেলেন অন্য জায়গায়। খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করে প্রাথমিক সত্যতা পান তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালেও এ বিষয়ে নীরব থাকতে বলা হয় তাকে। ভবিষ্যতে দায় নিজের ওপর বর্তাতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি থানায় মামলা করেন। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কয়েকজন ডিলার। হাছনা ট্রেডার্সের মালিকের ছেলে আরিফুল ইসলামের দাবি, উপডিলারদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিরোধ হয়। তাদের প্রতিষ্ঠান অন্য উপজেলায় সার বিক্রি করেনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বললেন, বিষয়টি পুলিশ এবং বিভাগীয়ভাবে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। সদর থানার ওসি সোহেল রানা বলেছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ বললেন, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া, অফিসে অনুপস্থিত থাকা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্যসহ কয়েকটি অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।






