মহাদেও নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মহাদেও নদী থেকে অবৈধভাব উত্তোলন করা হয় বালু। ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মহাদেও নদী থেকে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হলেও তা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তোলন করা বালু দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মহাদেও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে নদীর তীর ও আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালুর বিষয়টি নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকারকে জানানো হয়। পরে তিনি কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বালু জব্দ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নির্দেশের পরও ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক কোনো অভিযান চালানো হয়নি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের স্থান, বালুর অবস্থানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ প্রশাসনকে জানানো হলেও বালু জব্দ কিংবা উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
পরে উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দ বা উত্তোলন বন্ধের পরিবর্তে তা দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় বালু ব্যবসায়ীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ বা সমঝোতা ছাড়া প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও তাদের অভিযোগ।
এর আগে গত ৬ আগস্ট ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বালু সিন্ডিকেট’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে কলমাকান্দায় প্রশাসনের কথিত ব্যবস্থাপনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। এরপরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলমাকান্দার ইউএনও এন. এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে ছিলেন। তবে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে বালু অপসারণের কথা বলা হয়েছে।
অবৈধ বালু জব্দ না করে কেন তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে ইউএনও ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানার পরই ইউএনওকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি জেলায় কাজ করি, তাই দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয় না।’
প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।






