শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; আইন ও সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
রোববার বিকেলে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। প্রতিদিনই তিনি প্রমাণ করছেন যে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। তিনি নিজেকে এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে দাবি করছেন। আবার যেকোনো সময় বাংলাদেশে ফিরবেন এবং আগামী ৩ ডিসেম্বর দেশে আসবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা অপেক্ষায় আছি। তিনি দেশে এলে অবশ্যই আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে তার বিচার করা হবে। আপনারা জানেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিচারের মুখোমুখি করব।’
জুলাই হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বরের ফরেনসিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। তবে জেনেছি, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাগুরায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর একটিরও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে—এমন অভিযোগও এসেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে অন্য জায়গাগুলোতেও। আমাদের সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার বেশি দিন হয়নি। আমাদের একটু সময় দিতে হবে। ন্যায়বিচার অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। এর অন্যতম কারণ বিচারক ও জনবলের সংকট। তারপরও আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার সম্পন্ন করেছি। ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বার্তা দিয়ে তনু হত্যা মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চেয়েছিলেন। একজন সরকারপ্রধান কতটা গুরুত্ব দিলে ঈদের সকালে এমন নির্দেশ দিতে পারেন, তা সহজেই বোঝা যায়। আমরা ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময় হয়েছে। সময় পেলে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আছিয়া হত্যা মামলার বিচার দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে রামিসা হত্যা মামলারও বিচার হয়েছে। আছিয়া হত্যা মামলার বিচার দ্রুত হাইকোর্টে সম্পন্ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। অন্যান্য আলোচিত মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। বিচারকসংকট আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে।’
মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান, জেলা প্রশাসক, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম) প্রমুখ।




