সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহীর উন্নয়ন করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহীর উন্নয়ন করা হবে বলে জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলছিলেন, জনগণ ও বিএনপির নির্বাচিত চারজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী নাগরিক কমিটি আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রায় ১৬টি প্রতিষ্ঠান জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজশাহীসহ সারাদেশের উন্নয়নে কাজ করা হবে। রাজশাহী মহানগরীকে একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে’ জানাচ্ছিলেন, মিজানুর রহমান মিনু।
বিএনপির আমলে রাজশাহীতে গ্যাস লাইন স্থাপন ও চালু করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি জানান আবারও গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক শিল্পের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। এই শিল্পের প্রসারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীতে একটি ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেমন সারাদেশের উন্নয়ন হবে, তেমনি এর আলোকে রাজশাহীর উন্নয়নও নিশ্চিত করা হবে। তিনি প্রতি সপ্তাহে রাজশাহীতে এসে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।
দোয়া কামনা করে মিজানুর রহমান মিনু বলছিলেন, তার মধ্যে যেন অহংকার না আসে ‘আমি’ ও ‘আমার’ মনোভাব যেন না জন্মায়। আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব—এই প্রত্যয়ে কাজ করতে চান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে কম্পিউটার প্রযুক্তি ও আইটি সেক্টরকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ নাগরিক হিসেবে যুবসমাজকে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
‘প্রধানমন্ত্রী সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করেন এবং বিশেষ ছুটির দিনেও দিকনির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৭ বছরে রাজশাহী অনেক পিছিয়ে গেছে। জনগণের যে উন্নয়ন প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণের আশ্বাস তিনি আগে দিয়েছেন এবং ইনশাআল্লাহ তা বাস্তবায়ন করা হবে।
নিজেকে জনগণের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছুটির দিনেও তিনি রাজশাহীতে থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলছিলেন, কাজ করতে গিয়ে ভুল হলে তা ধরিয়ে দিতে হবে। যারা ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন, তারাই প্রকৃত বন্ধু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি ভূমিমন্ত্রীর কাছে দুটি দাবি তুলে ধরেন রাজশাহীতে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু এবং একটি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা।
সভায় রাজশাহী নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, ডা. ওয়াসিম হোসেন, অ্যাডভোকেট এনামুল হক, অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, অ্যাডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদি, অ্যাডভোকেট জমসেদ আলী, প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান ও প্রফেসর ড. ফৌজিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর আক্তার হোসেন।

