বারহাট্টা
সার নিয়ে ভোগান্তিতে কৃষকরা, কিনতে হচ্ছে বেশি দামে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেত্রকোনার বারহাট্টায় সার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১১টি বিসিআইসি ও ২৪টি বিএডিসি ডিলারের নামে সার বরাদ্দ থাকলেও ২০ আগস্ট পর্যন্ত কোনো ডিলারই বরাদ্দকৃত সার গুদামজাত করেননি।
সরেজমিন উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার রাধা রমন ট্রেডার্সে গিয়ে পরিচালক লিটন সাহার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, চলতি মাসে তাদের নামে ১৯ দশমিক ৯০ টন ডিএপি সার বরাদ্দ হয়েছে। তবে এখনো গুদামে সার এসে পৌঁছেনি। দুই-তিন দিনের মধ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
লিটন সাহা আরও জানান, চলতি মাসে বিএডিসি ডিলারদের নামে ডিএপি সারের কোনো বরাদ্দ হয়নি। শুধু ১১ জন বিসিআইসি ডিলারের নামে প্রায় ১৯ টন করে ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আসমা ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নূর মেহেদী এন্টারপ্রাইজের পরিচালক প্রশান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের নামে ডিএপি সারের বরাদ্দ নেই। তবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিলে আমদানিকারকের কাছ থেকে ডিএপি সার দেওয়া যাবে।
অন্যদিকে সিংধা ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার সজিব এন্টারপ্রাইজের পরিচালক যতন সরকার বলেন, তারা সরকারি মূল্যেই সার বিক্রি করেন। তবে বর্তমানে তাদের কাছে ডিএপি সার নেই।
স্থানীয় কৃষক মোফাজ্জল হোসেন খোকন মিয়া বলেন, বাজারে ডিএপি সার না পেয়ে তিনি গোপালপুর বাজার থেকে টিএসপি সার ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং এমওপি সার ১ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন। তার দাবি, এমওপি সারের বস্তায় লেখা রয়েছে—এই সার বিক্রির জন্য নয়। (সরকারি সার)
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি দেখছেন।
স্থানীয় কৃষক আরিফ মিয়া, ফুল মিয়াসহ অনেক কৃষক জানান, প্রয়োজনের সময় সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ায় তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে আমন মৌসুমে কৃষকদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।







