কৃষক কার্ডে আলোচিত টাঙ্গাইলের কবির হোসেন মারা গেছেন

মারা গেছেন কৃষক কবির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
কৃষক কার্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন।
আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কার্ড গ্রহণের পর কবির হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়। এরপর তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে তার একাধিক ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়, তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং দলীয় পরিচয়ের কারণে কৃষক কার্ড পেয়েছেন।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, কবির হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে। তিনি পেশায় একজন কৃষক। কৃষিকাজের পাশাপাশি নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি ১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন। তিনি একটি সেচ মেশিনের মালিক ছিলেন, যার মাধ্যমে নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতেও সেচ দিতেন। ফেসবুকে নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশের কারণে এলাকায় তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
কবির হোসেন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কবির হোসেন একজন কৃষক। সেচ মেশিন পরিচালনা করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি এলাকায় সুপরিচিত। তার দলীয় পদ-পদবি নেই।’
কবিরের পাশের গ্রামের বাসিন্দা রিফাত ইসলাম বললেন, ‘কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল কবির হোসেন কাকার যে ছবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি। আর এই ছবিগুলো দেখে অনেকেই ভাবছেন তিনি অনেক ধনী মানুষ এবং কৃষক নন। তিনি আমার পাশের গ্রামের মানুষ, উনি নিজের কৃষিজমি চাষ করেন এবং কৃষিজমিতে পানি সেচ দেওয়ার একটা মেশিন চালান।’
সমালোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের ফেসবুক পেজে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন কবির হোসেন। সেসব ভিডিওতে তিনি কৃষিকাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের কৃষক পরিচয়ের প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।




