বারহাট্টায় কাদাপাথর দিয়ে সেতু ঢালাই করায় বন্ধ কাজ

বারহাট্টায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ। ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার বারহাট্টায় প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। জমাট বাঁধা সিমেন্ট, কাদাযুক্ত পাথর, ময়লাযুক্ত বালু ও মরিচাধরা রড ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ পেয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ রবিবার উপজেলার গোড়ল এলাকায় সেতুটির ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলে স্থানীয়রা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন।
খবর পেয়ে বিকালে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ। তারা কাজের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অবশিষ্ট কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গোড়ল এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবির ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রুবেল মিয়া।
তাদের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সেতুতে মরিচাধরা রড, জমাট বাঁধা সিমেন্ট ও নিম্নমানের সুরকি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে কাজের অগ্রগতির তুলনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগাম বিল নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সেতুর ওপর ঢালাইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে সেন্টারিং করা হয়েছিল। পরে রডসহ সেই সেন্টারিং ভেঙে পড়ে যায়।
গোড়ল গ্রামের বাসিন্দা সুহেল মিয়া বলেছেন, সেতুটিতে খুবই নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এমনকি মরিচাধরা রডের ওপরও ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা আনিস তালুকদার বলেছেন, তার বাড়ির পাশেই সেতুটির নির্মাণকাজ চলছে। কাজের সময় উপজেলা থেকে কাউকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখা যায়নি।
তিনি জানালেন, পুরো কাজেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। রবিবার প্রশাসনের উপস্থিতিতেও অনিয়ম ধরা পড়েছে। পরে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ বলেছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজে অনিয়ম পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত চিঠি দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে কিছু অনিয়ম দেখা গেছে। এ কারণে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




